ইতালিয়ান ক্লাব রোমায় নিজের নতুন অধ্যায় এবং দলের দারুণ সূচনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কোচ জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনি। ট্রেন্তোয় আয়োজিত ‘ফেসবিল দেল্লো স্পোর্ত’ অনুষ্ঠানে তিনি দলের তারকা খেলোয়াড় পাওলো দিবালা এবং ডনিয়েল মালেনকে নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। দিবালাকে তিনি ফুটবলের এক ‘কবি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং অ্যাস্টন ভিলা থেকে আসা মালেনকে নিয়ে ক্লাবটির কৌশলগত ভুলের কথা তুলে ধরেছেন।
আতালান্তায় দীর্ঘ নয় বছর কাটানোর পর রোমায় যোগ দেওয়াকে নিজের ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় ঝুঁকি বা ‘ক্রসিং দ্য রুবিকন’ হিসেবে দেখছেন গাসপেরিনি। আতালান্তাকে একাধিকবার চ্যাম্পিয়নস লিগে নেওয়া এবং ইউরোপা লিগ জেতানো এই কোচ রোমায় নিজের প্রথম মৌসুমকে মানিয়ে নেওয়ার সময় হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রথম মৌসুমে দলটিকে লিগে তৃতীয় স্থানে নিয়ে গিয়ে সাত বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরান তিনি। চলতি মৌসুমে ইন্টার মিলান ও লাৎসিওর সাথে যৌথভাবে সিরি এ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে রোমা, আর ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ফেনারবাচের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা।
নতুন পরিবেশে প্রথম অনুশীলনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে গাসপেরিনি জানান, খেলোয়াড়রা তার কঠোর অনুশীলনের কথা শুনে কিছুটা চিন্তিত কিন্তু প্রস্তুত ছিল। তার মূল লক্ষ্য ছিল দলে নতুন ও ভিন্ন ভিত্তি তৈরি করা। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিপক্ষের ভুলের জন্য অপেক্ষা না করে বল কেড়ে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা জরুরি। ডিফেন্সে তার ‘গ্ল্যাডিয়েটরদের’ প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি জিয়ানলুকা মানচিনিকে নিজের আচরণ পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। মানচিনির উগ্র আচরণ প্রতিপক্ষকে বিরক্ত করত এবং ইতালির জাতীয় দলে তার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
পাওলো দিবালার চোট কাটিয়ে নিয়মিত ফিটনেস ফিরে পাওয়া নিয়ে গাসপেরিনি বলেন, শুরুতে তাকে বিশ্রাম দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি বারবার চোটে পড়ছিলেন। তবে অনুশীলনের ধরনে পরিবর্তন এনে এই মৌসুমে দিবালা অসাধারণ পারফর্ম করছেন। গাসপেরিনির মতে, দিবালা হলেন ফুটবলের অন্যতম সেরা কবি। এর আগে জেদা, ইলিচিচ এবং মিলিতোর মতো খেলোয়াড়দের কোচিং করানো গাসপেরিনি দিবালাকে তাদের কাতারেই রাখছেন, যাদের বল স্পর্শ করার শৈলী অন্য সবার চেয়ে আলাদা।
অন্যদিকে, গত জানুয়ারিতে অ্যাস্টন ভিলা থেকে রোমায় আসা ডনিয়েল মালেনকে নিয়ে গাসপেরিনি জানান, ভিলা তাকে কৌশলগত কারণে বিক্রি করে দিয়েছিল। মালেন সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতে চেয়েছিলেন এবং গাসপেরিনিও মনে করেন পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি মালেন অত্যন্ত বিপজ্জনক। মালেনের অবিশ্বাস্য গোল সংখ্যা দেখে তিনি নিজেও অবাক। গাসপেরিনি মালেনকে মনে করিয়ে দেন যে গঞ্জালো হিগুয়েন সিরি এ-তে এক মৌসুমে ৩৬টি গোল করেছিলেন, তবে মালেন যদি ৩০টি গোল করতে পারেন, তাতেই তিনি খুশি হবেন।

