মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের ওপর আরোপিত 'কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিস থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট' (CAATSA) বা সিএএটিএসএ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেননি। নিষেধাজ্ঞা অপসারণের ক্ষেত্রে কী বাধা রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি সবসময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সাথে কথা বলতে প্রস্তুত। এরদোয়ানকে তিনি একজন বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তিনি সবসময় তাকে খুশি রাখতে চান।
এর আগে জুলাই মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে এরদোয়ানের সাথে এক বৈঠকে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি সিএএটিএসএ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আগ্রহী। এছাড়া তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টিও বিবেচনা করবেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, তুরস্ক রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে ওয়াশিংটন আঙ্কারাকে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, এই রুশ প্রযুক্তি ন্যাটো ব্যবস্থার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি এফ-৩৫ এর জন্য নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করে।
এরপর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এস-৪০০ কেনার জেরে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প ও বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর সিএএটিএসএ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্ক শুরু থেকেই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। আঙ্কারার ভাষ্যমতে, মার্কিন নির্মিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সুরক্ষার জরুরি প্রয়োজনে তারা রাশিয়ার এই ব্যবস্থা কিনতে বাধ্য হয়েছিল।
এই বিতর্কটি দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের মধ্যে একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আঙ্কারা ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এফ-৩৫ কর্মসূচিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। এ বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, বন্ধুদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজন নেই এবং এটি তুলে নেওয়ার সময় হয়েছে।

