সুইডেন অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে আন্তর্জাতিক দায়িত্বে থাকা উইঙ্গার আলিউ নিজিয়ে প্রকাশ করেছেন যে, গত দলবদলের বাজারের শেষ মুহূর্তে ইংলিশ ক্লাব ক্রিস্টাল প্যালেস তাকে দলে ভেড়ানোর জোর চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে তোরিনো থেকে ইতালিয়ান ক্লাব ফিওরেন্টিনায় যোগ দেওয়ার শেষ মুহূর্তে আসা সেই প্রস্তাব তিনি সরাসরি ফিরিয়ে দেন। নিজিয়ে জানান, তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে তার লক্ষ্য কেবল ফিওরেন্টিনা।
২০২১ সালে তোরিনোর যুব একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইতালিতে খেলছেন নিজিয়ে। গত ৩০ আগস্ট দলবদলের উইন্ডো বন্ধ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তার ফিওরেন্টিনায় যাওয়ার চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। নিজিয়ে জানান, ক্রিস্টাল প্যালেসের সাথে চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু তোরিনো সবসময়ই তাদের প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।
নিজের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে নিজিয়ে বলেন, আমি যখন মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ফ্লোরেন্সের পথে যাচ্ছিলাম, তখন শেষ মুহূর্তে ক্রিস্টাল প্যালেস চুক্তিটি ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি তখনই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলাম—হয় ফিওরেন্টিনা, নয়তো কিছুই নয়। তারা শেষ চেষ্টা করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি ততক্ষণে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম। তাই অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফিওরেন্টিনাই আমার জন্য সেরা বিকল্প ছিল এবং আমি এখানে সত্যিই খুব খুশি।
শুধু ক্রিস্টাল প্যালেস নয়, অস্ট্রিয়ান ক্লাব আরবি সালজবার্গও এই তরুণ উইঙ্গারকে দলে নিতে আগ্রহী ছিল। তবে ফিওরেন্টিনাকে বেছে নেওয়ার পেছনে অন্যতম বড় কারণ ছিল ক্লাবটির কোচ পাওলো ভানোলির উপস্থিতি, যার অধীনে তিনি তোরিনোতে খেলেছিলেন। ভানোলির অধীনেই সিরি-এ লিগে নিজিয়য়ের অভিষেক হয়েছিল এবং তোরিনোর হয়ে ইতালিয়ান ফুটবলের শীর্ষ স্তরে নিজের প্রথম গোলটিও করেছিলেন তিনি। ফাবিও গ্রোসো বরখাস্ত হওয়ার পর ভানোলিকে ফ্লোরেন্সে ফিরিয়ে আনা হয়।
ফিওরেন্টিনার বর্তমান স্কোয়াড সম্পর্কে নিজিয়ে বলেন, আমাদের দলটি বেশ তরুণ, সবার বয়সই প্রায় ২১ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। এটি আমার ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য আদর্শ জায়গা। তবে এই তরুণ দলের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম হলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক অভিজ্ঞ গোলরক্ষক দাভিদ দে হেয়া। দে হেয়া সম্পর্কে নিজিয়ে হেসে বলেন, একেবারেই তাই, তিনি আমাদের বড় ভাইয়ের মতো, যিনি আমাদের দেখাশোনা করেন।

