ডিজনির মালিকানাধীন এবিসি নেটওয়ার্কের একজন আইনজীবী মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে এফসিসি বা ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের বিরুদ্ধে একটি আবেদন জানিয়েছেন। এতে নেটওয়ার্কটির সম্প্রচার লাইসেন্স নিয়ে এফসিসির চলমান আগাম পর্যালোচনা প্রক্রিয়াটি স্থগিত করার দাবি জানানো হয়েছে। এবিসির অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও বিষয়বস্তুর প্রতি ক্ষোভ থেকেই মূলত এই নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এপ্রিল মাসে এফসিসি আকস্মিকভাবে এবিসি এবং এর মূল প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন আটটি টেলিভিশন স্টেশনকে তাদের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন নির্ধারিত সময়ের আগেই জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। অথচ এই লাইসেন্সগুলো ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে নবায়ন হওয়ার কথা ছিল। এবিসির আইনজীবী বেথ উইলকিনসন শুনানিতে দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং এফসিসি চেয়ার ব্রেন্ডান কারের বিভিন্ন মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে এই পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে।
উইলকিনসন বলেন, সরকার তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবিসির প্রথম সংশোধনীর (ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট) অধীনে প্রাপ্ত বাকস্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা করছে। তিনি এফসিসির এই পদক্ষেপকে ফরাসি বিপ্লবের গিলোটিনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, নেটওয়ার্কটি এখন এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, যেখানে যেকোনো সময় তাদের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই মাসে হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবিসি ও এনবিসিকে তীব্র সমালোচনা করে তাদের লাইসেন্স বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা তার মক্কেলের জন্য একটি সরাসরি হুমকি।
এবিসির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, এই পরিস্থিতির কারণে নেটওয়ার্কটির সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, 'দ্য ভিউ' টক শোতে ক্লিপ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং কমেডিয়ান জিমি কিমেল ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী জেমস টালারিকোর সাথে তার সাক্ষাৎকারটি নেটওয়ার্কে প্রচার না করে ইউটিউবে প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, এফসিসির পক্ষ থেকে মার্কিন বিচার বিভাগ এই আইনি লড়াই লড়ছে। আইনজীবী দিমিতার জর্জিভ-রেমে যুক্তি দেন যে, ডিজনির বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি (ডিইআই) অনুশীলনের তদন্তে কোম্পানিটি পর্যাপ্ত সাড়া না দেওয়ায় এফসিসি এই আগাম লাইসেন্স নবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইনি বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো, ডিজনি বা এবিসি কি জেলা আদালতে সরাসরি এফসিসির এই সিদ্ধান্তের চ্যালেঞ্জ করতে পারে কি না। বিচার বিভাগ বলছে, এই ধরনের আপিল শুধুমাত্র পূর্ণাঙ্গ কমিশনের কাছে বা ফেডারেল আপিল আদালতে হতে পারে। তবে এবিসির দাবি, এটি একটি প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড, যা কংগ্রেসের নির্ধারিত সাধারণ নিয়মের বাইরে এবং এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
শুনানি চলাকালীন বাইডেন কর্তৃক নিযুক্ত ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ লরেন আলিখান সরকারের দাবির বিষয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি জানতে চান, লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি ছাড়া এবিসিকে তথ্য প্রদানে বাধ্য করার আর কোনো আইনি পথ এফসিসির হাতে আছে কি না। সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় বিচারক সরকারকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
October 6, 2026 / 3:26 PM EDT / CBS News

