ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিযুক্ত বিশেষ দূতরা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য মায়ামিতে ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, যুদ্ধের ইতি টানার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত প্রস্তাব তৈরির উদ্দেশ্যেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ক্রামতোর্স্ক শহরে রুশ হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার ভয়াবহ ঘটনার পর এই আলোচনার দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের এই আলোচনায় অংশ নেবে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে এই বৈঠক হবে।
ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলে প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ কিরিলো বুদানভসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা রুস্তম উমেরভ, সের্গেই কিসলিটসিয়া এবং ডেভিড আরাখামিয়া উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে ইউরোপীয় প্রতিনিধি দলেরও যোগ দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। মার্কিন সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত মাসে উইটকফ ও কুশনারের মস্কো ও কিয়েভ সফরের পর এই বর্ধিত ফরম্যাটে নতুন আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, যুদ্ধ-পরবর্তী সমৃদ্ধি পরিকল্পনা এবং সংঘাতের অন্যান্য দিক নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলো জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছে তাদের হতাশার কথা জানিয়েছে, যা ট্রাম্প রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় হামলার ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সূত্রগুলো বলছে, শীতকাল আসার আগে যুদ্ধ বন্ধ না হলে পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হবে, তাই যুক্তরাষ্ট্র সব পক্ষকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব তৈরির চেষ্টা করছে।
এর আগে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র অক্টোবরের শেষ নাগাদ ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিতে আগ্রহী। ক্রেমলিনও গত মাসে তিন পক্ষীয় আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি। তবে অতীতে সব শান্তি প্রচেষ্টাই রাশিয়ার অনমনীয় শর্তের কারণে ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে, উইটকফকে বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে এয়ার ফোর্স ওয়ানে টেক্সাস সফর করতে দেখা গেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইউক্রেন ইস্যুটি বর্তমানে ট্রাম্পের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

