সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি জানিয়েছেন, ফ্লাইদুবাইয়ের এক ওমানি কো-পাইলট দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি বিমানে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। ২৯ বছর বয়সী ওই পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন, তবে অন্য পাইলটের হস্তক্ষেপে তা ব্যর্থ হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর এই ঘটনা ঘটে। ওই সময় বিমানটি ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। আল শামসি জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি যাত্রী টার্মিনালে সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটানোর উদ্দেশ্যে এই সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।
তদন্তকারীরা ১ অক্টোবর থেকে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, সন্দেহভাজন ওই পাইলট এর আগে দুইবার তেল আবিবে ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন, যাতে তিনি রুট এবং বিমানবন্দরের বিষয়ে পরিচিত হতে পারেন। আমিরাতের আইনজীবীদের ধারণা, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের মার্কিন হামলার ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি এই পরিকল্পনা করেছিলেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে ওই ব্যক্তির আদর্শগত ও পেশাগত প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পড়ার সময় থেকেই তার মধ্যে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। ফ্লাইদুবাইতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ওমান এয়ার এবং রয়্যাল এয়ার মারকসহ বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সে কাজ করেছেন। ফ্লাইদুবাইতে তিনি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেন। এই ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ।

