কুমিল্লায় আলোচিত সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তার ব্যবহৃত আইফোনটি এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক মো. সুমনকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে পুলিশ ফোনটি উদ্ধার করে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে। উদ্ধার করা আইফোনের তথ্য, কললিস্ট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গ্রেপ্তারকৃত সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আরও জানান, মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং শনিবার সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের পাশেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। তাজমিনের পরিবার জানায়, সে চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরবর্তীতে কক্সবাজারে তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায় এবং সিসিটিভি ফুটেজে তাকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নামতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে অটোরিকশাচালক সুমনের খালাশাশুড়ি ও বোনজামাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

