ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস দেশটির সাধারণ নির্বাচন ২০২৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছেন। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সৃষ্ট বিভিন্ন বাধা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা-এর এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, প্রেসিডেন্ট আব্বাস শনিবার একটি ডিক্রি জারির মাধ্যমে এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনে দ্রুত নির্বাচনের জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছিল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২৮ নভেম্বর লেজিসলেটিভ বা সংসদীয় নির্বাচন এবং ২০২৭ সালের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন ডিক্রি অনুযায়ী এখন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট এবং ফিলিস্তিনি লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্যরা একই দিনে নির্বাচিত হবেন।
এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর নির্বাহী কমিটি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ফিলিস্তিনি উপদলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক, নিরাপত্তা এবং মাঠ পর্যায়ের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলো প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালেও নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কিন্তু অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ভোটগ্রহণের অনুমতি দিতে ইসরায়েলের অস্বীকৃতির কারণে তা বাতিল করতে হয়।
ফিলিস্তিনি লেজিসলেটিভ কাউন্সিল ২০০৭ সাল থেকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে অকার্যকর হয়ে আছে এবং ২০১৮ সালে দেশটির সুপ্রিম কনস্টিটিউশনাল কোর্ট এটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। যদি ২০২৭ সালে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা হবে ২০০৬ সালের পর ফিলিস্তিনের প্রথম সংসদীয় নির্বাচন। এর আগে ১৯৯৬ এবং ২০০৬ সালে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

