তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে গত ৮০ বছরের মধ্যে ভয়াবহতম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শহরের ১৬ মিলিয়ন বাসিন্দার জীবনে নেমে আসা এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তফা চিফচি শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় ইস্তাম্বুলে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের ঐতিহাসিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণের চেয়েও বেশি। বুধবার রাতের ভারি বর্ষণে শহরের রাস্তাঘাট, পার্ক, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। অনেক যানবাহন পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে স্তূপ হয়ে জমে থাকতে দেখা গেছে।
শুক্রবার ইস্তাম্বুলের সারিয়ের জেলায় একটি সেতুর নিচ থেকে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ঝড়ের কবলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কিশোরসহ আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। উদ্ধার অভিযানের সময় মন্ত্রী মোস্তফা চিফচি জানান, মরদেহ উদ্ধারের আগে চারজন নিখোঁজ ছিলেন।
পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরুম বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। শহরাঞ্চলে জলাশয়ের কাছাকাছি অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে বলে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি একে একটি অপরিহার্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
মুরাত কুরুম, যিনি আগামী মাসে তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ-৩১-এর সভাপতিত্ব করবেন, বন্যাকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সাথে যুক্ত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই এখন আর কোনো বিকল্প নয়, বরং একটি প্রয়োজনীয়তা।

