ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগারে হামলার অভিযোগ উঠেছে। মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে মস্কোর দক্ষিণে অবস্থিত রিয়াজান শহরের ওই শোধনাগারে ইউক্রেন বড় ধরনের হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা চারটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েক ডজন ড্রোন ভূপাতিত করেছে, তবে ড্রোন থেকে পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের কারণে ওই স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে বুধবারও রাশিয়া দাবি করেছিল যে কিয়েভ শোধনাগারে হামলার চেষ্টা করেছে, যদিও ইউক্রেন তা অস্বীকার করে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা নাকচ করে দেয়।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে তিন দিন ধরে হামলা সীমিত রেখেছিলেন বলে জানান জেলেনস্কি। তিনি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রাখায় তিনি এখন আর চুপ থাকবেন না। জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনকে হামলার পথ থেকে সরাতে মার্কিন প্রশাসন গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিং বন্ধ করে দিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাকে সরাসরি হুমকি দিয়েছে যে, হামলা বন্ধ না করলে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকি স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টিও ট্রাম্প প্রশাসনের ইচ্ছার প্রতিফলন বলে তিনি মনে করছেন।
ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্টারলিংক পরিষেবার কিছু কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, তবে ড্রোন চলাচলের গতির ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি প্রত্যাহার হয়েছে কি না তা এখনো অস্পষ্ট। এদিকে, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার আকাশপথে হামলা মোকাবিলায় মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো এই পরিস্থিতিকে একটি বড় ভুল হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটি ইউক্রেনের আত্মরক্ষার সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে।
লন্ডন সফরে গিয়ে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিনিময়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। একই সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার তীব্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। জেলেনস্কির ভাষ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ৮৫০টিরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। কিরোভোহরাদ অঞ্চলে গত ১০ ঘণ্টায় প্রায় ৩৬০টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সেখানে সবচেয়ে বড় আক্রমণ। এছাড়া দনেৎস্ক, খেরসন ও ভোলিন অঞ্চলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
অন্য এক ঘটনায় রোমানিয়ার উপকূলে একটি রাসায়নিক ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলার পর সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। রাশিয়া দাবি করেছে, তারা ওদেসা বন্দরের দিকে সামরিক কার্গো নিয়ে যাওয়া দুটি জাহাজকে আঘাত করেছে। জেলেনস্কি এই পরিস্থিতিকে রাশিয়ার পরিকল্পিত উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ডিজেল সরবরাহের চুক্তিকে তিনি রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় বিনিয়োগ হিসেবে সমালোচনা করেছেন।

