মরিশাস সরকার দেশটিতে চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার পাশাপাশি কার্ফিউর মেয়াদ আরও দুই রাত বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে পানির সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ গত শুক্রবার আরও তীব্র রূপ নেয়, যখন ক্যাম্প লেভিক্স এলাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে ২৭ বছর বয়সী এক নারী আহত হন। রাজধানী পোর্ট লুইস থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই জনবহুল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী নবীন রামগুলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে জানানো হয়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত প্রথম দফায় কার্ফিউ জারি করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতে দ্বীপের নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে রাত সাড়ে ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৫টা পর্যন্ত চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই বিধিনিষেধ শুক্রবার সকালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ৯৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। বুধবার রাতের অভিযানে আরও ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ সব রাস্তা বাধা ও প্রতিবন্ধকতামুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। সরকার জানিয়েছে, সহিংসতা দমনে পুলিশ আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং বিশেষ করে যেসব এলাকায় অস্থিরতা বেশি, সেখানে টহল ও তল্লাশি চৌকি বাড়ানো হবে।
মন্ত্রিসভার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় অভিযোগ আনা হতে পারে। বিচার বিভাগীয় ও আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো বা সহিংসতার উস্কানি পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ। এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের জড়িত থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার শিশুদের আইন সংশোধন করে আটকের বয়স ১৪ থেকে কমিয়ে ১২ করার বিষয়টিও ভাবছে।
দেশটিতে পানির সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত জলাধারগুলোতে পানির মজুত কমে ৫৭.১ শতাংশে নেমেছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৮৭.৪ শতাংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বোরহোল খনন ও পানি সরবরাহের জন্য ট্যাঙ্কার মোতায়েনের মতো জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির হার সেপ্টেম্বরে ৪.১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত বছর ছিল ৩.৪ শতাংশ। এর পেছনে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিকে দায়ী করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে। মরিশাসসহ পার্শ্ববর্তী রদ্রিগেজ ও আগালেগা দ্বীপে নির্ধারিত কিছু প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগুলো যথারীতি চলবে। এদিকে, ব্রিটেন ও কানাডা তাদের নাগরিকদের বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এবং সম্ভাব্য পরিবহন বিঘ্নের বিষয়ে সতর্ক করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও পোর্ট লুইসে তাদের নির্ধারিত সেবা বাতিল করেছে এবং দর্শকদের আগাম পরিকল্পনা করার নির্দেশ দিয়েছে।

