চীনের গানসু প্রদেশের তিয়ানশুই শহরের 'হেশি পেইক্সিন কিন্ডারগার্টেন'-এর মালিক লি হুইফাংকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে লানঝু ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট। শিশুদের খাবারে বিষাক্ত ও ক্ষতিকারক উপাদান মেশানোর দায়ে তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশে তার ব্যক্তিগত ৫ লাখ ইউয়ান (প্রায় ৫৬,২০০ পাউন্ড বা ৭৪,৭০০ ডলার) সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, নার্সারির রান্নাঘরে কর্মরত কর্মীরা শিশুদের খাবারের মান আকর্ষণীয় করতে অখাদ্য রং ব্যবহার করতেন, যদিও সেই রংগুলোতে স্পষ্টভাবেই তা খাওয়ার অযোগ্য বলে উল্লেখ ছিল। এই নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ নার্সারির মালিক লি হুইফাং এবং নির্বাহী অধ্যক্ষ ঝি জিংলিন। ঝি জিংলিনকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ ইউয়ান জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া রান্নাঘরের আরও চার কর্মীকে ছয় থেকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে, যখন নার্সারির ২৪৭ জন শিক্ষার্থী ও কর্মীর রক্তে অস্বাভাবিক মাত্রায় সীসা ধরা পড়ে। এর আগে অন্তত ২৩৫ জন শিশু স্টিমড রেড ডেট কেক এবং সসেজ কর্ন বান খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওই খাবারগুলোতে সীসার মাত্রা ছিল ১০৫২ মিলিগ্রাম/কেজি এবং ১৩৪০ মিলিগ্রাম/কেজি, যা চীনের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড ০.৫ মিলিগ্রাম/কেজির তুলনায় দুই হাজার গুণ বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সীসা শিশুদের মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এদিকে, ঘটনার পর জানা গেছে যে স্থানীয় কিছু কর্মকর্তা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘুষ নিয়ে এবং রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পরিবর্তন করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে চীন সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খাবার সরবরাহের জন্য নতুন জাতীয় নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এখন থেকে প্রতিটি ব্যাচের খাবার পরীক্ষার পাশাপাশি চাল, আটা ও ভোজ্য তেল কেবল কেন্দ্রীয় ক্রয় কেন্দ্র থেকে সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

