আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় টানা পঞ্চম দিনের মতো সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও দাঙ্গা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পাথর, পেট্রোল বোমা, ফ্লেয়ার এবং আতশবাজি নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে টিয়ার গ্যাস, জলকামান এবং লাঠিচার্জ ব্যবহার করে শহরটির কেন্দ্রস্থল থেকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
বিক্ষোভের এই নতুন উত্তাপের পেছনে রয়েছে হাই স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, যারা প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগের দাবিতে এক বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৩২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় পুলিশ প্রধান স্কেমদের হিতা জানিয়েছেন, গত পাঁচ দিন ধরে জাতীয় পুলিশ বাহিনী সহিংসতার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বলেন, মুখোশধারী ও সহিংস ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ কর্মকর্তা ও সরকারি স্থাপনার ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি করছে। হিতা আরও জানিয়েছেন যে, দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় সাতজন পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্তের স্বার্থে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার রাতের অন্ধকার নামার সাথে সাথে তিরানার কেন্দ্রস্থলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে রাস্তাগুলো পাথরের টুকরোয় ভরে যায় এবং আবর্জনার কন্টেইনার পোড়ানোর ধোঁয়া ও টিয়ার গ্যাসের ঝাঁঝালো গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় অনেক তরুণ গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, সরকারি ভবনে হামলা চালায় এবং পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী এডি রামা তার চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি পদত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি উল্টো তার রক্ষণশীল বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে সংঘর্ষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এক ভিডিও বার্তায় রামা বলেন, তিনি কাউকে দেশের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে দেবেন না এবং রাজনৈতিক লাভের আশায় যারা বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তাদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি আরও যোগ করেন, এই কঠিন সময়ে তার দায়িত্ব হলো নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার বজায় রাখা এবং আলবেনিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

