অ্যারিজোনার পেজ শহর থেকে প্রায় ৫০ মাইল দূরে অবস্থিত রেইনবো ব্রিজ। প্রায় ২৯০ ফুট উঁচু এই লাল পাথরের সেতুটি স্ট্যাচু অফ লিবার্টির প্রায় সমান। ১৯১০ সালে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষিত এই স্থানটি নাভাহো এবং হোপি আদিবাসীদের কাছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পবিত্র হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। একসময় প্রতি বছর ৩ লাখেরও বেশি পর্যটক এখানে আসতেন, তবে বর্তমানে পানির স্তর কমে যাওয়ায় সেখানে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
১৬ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লেক পাওয়েলের পানির স্তর ধারণক্ষমতার মাত্র ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। এর ফলে গ্লেন ক্যানিয়নের তলদেশে থাকা অনেক এলাকা এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। একসময় যে স্থানগুলো ১০০ ফুটেরও বেশি পানির নিচে ছিল, সেখানে এখন ঘাস ও লতাগুল্ম জন্মাচ্ছে এবং লাল বেলেপাথরের ওপর টিকটিকি ঘুরে বেড়াচ্ছে। গ্রেগরি ব্রিজ এবং ক্যাথেড্রাল ইন দ্য ডেজার্ট-এর মতো প্রাকৃতিকভাবে তৈরি স্থাপনাগুলোও এখন পানির ওপর ভেসে উঠেছে।
পানির স্তর কমে যাওয়ায় জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ সেখানকার ভাসমান ডকগুলো সরিয়ে নিয়েছে। ফলে পর্যটকদের এখন নৌকা থেকে লাফিয়ে কাদাপানিতে নেমে ২ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে সেতুতে পৌঁছাতে হয়, অথবা নাভাহো নেশনের অনুমতি নিয়ে ১৪ মাইল দীর্ঘ হাঁটাপথ ব্যবহার করতে হয়। ১৯৯৫ সালে যেখানে ৩ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ এখানে এসেছিল, গত বছর সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ১১ হাজার ৪০৪ জনে।
গ্লেন ক্যানিয়ন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক এরিক বলকেন এই পরিস্থিতিকে প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মনে করেন, কলোরাডো নদীর পানি দিয়ে লেক পাওয়েল এবং লেক মিড উভয়ই সচল রাখা অসম্ভব। অনেক পরিবেশবাদী এখন বাঁধটি সরিয়ে নদীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছেন। তবে স্থানীয়দের একাংশ মনে করেন, এই হ্রদ এখনো পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং কম পানির স্তর নতুন ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে।
পাওয়েল হ্রদটি ১৯৬৩ সালে গ্লেন ক্যানিয়ন বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রে বৃষ্টিপাত ও পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় এই জলাধারটি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পর্যটন ধরে রাখতে এবং হ্রদের উপযোগিতা প্রমাণ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন।
পেজ শহরের ভাইস মেয়র মাইক ফ্যারো জানিয়েছেন, পানির স্তর কমে যাওয়া পর্যটননির্ভর এই শহরের জন্য আশীর্বাদ ও অভিশাপ উভয়ই। ২০১৯ সালে নাভাহো জেনারেটিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১০০০ স্থানীয় মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছিলেন। এরপর কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন পানির স্তর কমে যাওয়ায় পর্যটকরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, যদিও শহর কর্তৃপক্ষ তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, এখনকার দৃশ্যপট ১৯৬০-এর দশকের শেষের পর আর কেউ দেখেনি।
