অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক মার্কিন ফটোসাংবাদিকের ওপর সহিংস হামলার ঘটনায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে কঠোর তদন্ত এবং অপরাধীদের কারাদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাসক্যাবি। ওয়াশিংটন পোস্টের হয়ে দায়িত্ব পালনরত প্রখ্যাত ফটোসাংবাদিক হাইডি লেভিনকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়, যখন তিনি ফিলিস্তিনি কৃষকদের বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের চিত্র ধারণ করছিলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা হাইডি লেভিনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং ক্যামেরার সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয়। এই হামলার ফলে মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত লেভিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে মাঝারি ধরনের।
এক্স প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বার্তায় রাষ্ট্রদূত হাসক্যাবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নারী আলোকচিত্রীর ওপর হামলা কাপুরুষোচিত ও ঘৃণ্য সন্ত্রাসবাদী কাজ। যারা নিরস্ত্র সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় এনে দীর্ঘ মেয়াদে কারাগারে পাঠানো উচিত।" তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের দাবি জানান।
হাসক্যাবি এই ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কাউকে দায়ী করা থেকে বিরত রয়েছেন। এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার পেছনে ফিলিস্তিনি বাসিন্দা বা "চরম বামপন্থী" কর্মীদের সম্পৃক্ততার দাবি তুলে ঘটনার দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে কেবল "যেকোনো পক্ষের অপরাধমূলক সহিংসতা"র নিন্দা জানানো হয়েছিল, যা রাষ্ট্রদূত হাসক্যাবির কঠোর বার্তার তুলনায় বেশ মৃদু ছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহকে কেন্দ্র করে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষ থেকে বারবার বাধা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।

