ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দেশজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে সৃষ্ট নজিরবিহীন ও লাগামহীন সহিংসতাকে 'অসহনীয়' বলে অভিহিত করেছেন। রবিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, কোনো কিছুই এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিতে পারে না।
ম্যাক্রোঁ প্রকৃত বিক্ষোভকারীদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে যারা ভাঙচুর, ধ্বংসযজ্ঞ এবং লুটপাটের মতো অপরাধে লিপ্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে পার্থক্য করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, 'যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তাদের অবশ্যই তার মূল্য দিতে হবে।' সরকার এই দাঙ্গাবাজদের বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
শহরের রাস্তাঘাট যেভাবে তছনছ করা হয়েছে, তাকে 'অসহনীয়' উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট জানান, সরকারি ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শহরগুলোকে রক্ষা করতে স্থানীয় মেয়রদের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। এছাড়া, পুলিশের প্রস্তুতি নিয়ে যে সমালোচনা উঠেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন ম্যাক্রোঁ।
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেসকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। গত শনিবারের বিক্ষোভে প্রায় ২,৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রায় ১,০০০ পুলিশ কর্মকর্তা ও জেন্ডার্ম আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।
গত মাসে শিক্ষক সংকট এবং স্কুলের নাজুক পরিস্থিতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ধীরে ধীরে বৈষম্য, ব্যয় সংকোচন নীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। শনিবার ফ্রান্স জুড়ে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। এর মধ্যে অধিকাংশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছু সহিংস গোষ্ঠী দোকানপাট লুট ও সরকারি ভবনে হামলা চালায়। লিমোজেস শহরের ঐতিহাসিক টাউন হলটি অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রবিবারও প্যারিসের প্লেস ডি লা রিপাবলিকে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।

