বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) কোনো সুযোগ তৈরি হলে সেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন লাহোর কালান্দার্সের সহ-মালিক ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) সামিন রানা। বর্তমানে আর্থিক অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিপিএলের পরবর্তী আসর স্থগিত রেখেছে। তবে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যথাযথ প্রোটোকল মানলে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের প্রতিযোগিতায় স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বোর্ড।
আবুধাবির শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে তামিম ইকবালের সঙ্গে সামিন রানাকে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটাতে দেখা যায়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিপিএলের প্রতি তার আগ্রহের কথা জানান। সামিন রানা বলেন, সুযোগ থাকলে তিনি অবশ্যই বিপিএলের অংশ হতে চান। তার মতে, বাংলাদেশ তার হৃদয়ের খুব কাছের একটি দেশ এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ খুঁজছেন।
বিপিএলকে একটি চমৎকার টুর্নামেন্ট হিসেবে অভিহিত করে সামিন রানা বলেন, এটি বেশ কিছুদিন ধরে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এর পেছনে নির্দিষ্ট কারণও রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ক্রিকেটের প্রতি যে আবেগ রয়েছে, তাতে এই লিগটি কোনোভাবেই সংকটে থাকার কথা নয়। তিনি আরও যোগ করেন, যদি এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে উভয় পক্ষের জন্য জয়ী হওয়ার সুযোগ থাকে, তবে তিনি সানন্দে বিপিএলে যোগ দেবেন।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ১১ বছরের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতায় কাজ করার সুবাদে সামিন রানা বিসিবির সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, তামিম ইকবালের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট নিয়ে তার আলোচনা হয়েছে এবং তিনি আশা করেন তার অর্জিত জ্ঞান বিসিবি সভাপতির উপকারে আসবে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার গ্লোবাল লিগ, টি-১০ ক্রিকেট এবং ক্রিকেট কানাডার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
এ ছাড়া, বিসিবির সঙ্গে একটি খেলোয়াড় বিনিময় কর্মসূচি চালুর বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছেন সামিন রানা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা পাকিস্তানে গিয়ে লাহোর কালান্দার্সের হাই-পারফরম্যান্স সেটআপে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। তিনি উল্লেখ করেন, গায়ানার যুব ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্প্রতি তারা এমন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া জিম্বাবুয়ের আটজন ক্রিকেটার ইসলামাবাদে তাদের হাই-পারফরম্যান্স সেন্টারে ছয় সপ্তাহ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, খেলোয়াড় বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশই উপকৃত হবে। লাহোর কালান্দার্সের প্রতি বাংলাদেশের দর্শকদের বেশ সমর্থন রয়েছে এবং সাকিব আল হাসান, রিশাদ হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমানের মতো ক্রিকেটাররা পিএসএলে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটির হয়ে খেলেছেন।

