সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পর্যালোচনা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ কার্যক্রম আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, বৈঠকে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের ঐতিহাসিক ও গভীর সম্পর্কের বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এই সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। আরব আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম-এর তথ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষই আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে নিজেদের মতামত বিনিময় করেছে।
এই কূটনৈতিক বৈঠকগুলো এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি বেশ অস্থিতিশীল। বিশেষ করে ইয়েমেনে সংঘাতের পুনরাবৃত্তি এবং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আলোচনার গুরুত্ব অনেক। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের হুথি মিলিশিয়ারা সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে বারবার হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব সামরিক জোট ইয়েমেনে হুথি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। হুথিরা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং উত্তরের বেশ কিছু প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ দখল করে নিয়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২০ সালে ইয়েমেন থেকে তাদের মূল যুদ্ধবাহিনী প্রত্যাহার করে নেয় এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশটিতে তাদের অবশিষ্ট সামরিক উপস্থিতি পুরোপুরি সমাপ্ত করার ঘোষণা দেয়।

