অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হেবরনে (আল-খলিল) ইসরাইলি সেনাদের ওপর বন্দুক হামলার ঘটনায় দুইজন সেনা নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবারের এই প্রতিশোধমূলক ঘটনাটি ফিলিস্তিনিদের ওপর তেল আবিব শাসনব্যবস্থার চলমান নিষ্ঠুরতার সরাসরি প্রতিক্রিয়া বলে বর্ণনা করেছে গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট।
পপুলার রেসিট্যান্স কমিটি (পিআরসি) এক বিবৃতিতে এই অভিযানের প্রশংসা করে জানিয়েছে, দখলকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ, সামরিক বাহিনী এবং চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের নৃশংস অপরাধের জবাব হিসেবে এটি ঘটেছে। সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, ইসরাইলের ধারাবাহিক অপরাধ ফিলিস্তিনি জনগণের মনোবল ভাঙতে পারবে না এবং এই হামলা তাদের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের আঘাত করেছে।
ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ঘটনাটিকে ‘বীরত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করলেও এর দায় স্বীকার করেনি। এছাড়া লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহও এই অভিযানকে ইসরাইলের চলমান গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে একটি ‘স্বাভাবিক ও বৈধ প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই সেনার নাম স্টাফ সার্জেন্ট রন ইয়োনাতান রয়টম্যান (২৩) এবং সার্জেন্ট ইউভাল শাই সভিলেম (২০)। রয়টম্যান একটি সেনাদলের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দুই ফিলিস্তিনি একটি গাড়িতে করে হেবরন শহরের বাইরে অস্থায়ী চেকপয়েন্টের কাছে পৌঁছান। এরপর তারা গাড়ি থেকে নেমে অ্যাসল্ট রাইফেল ও একটি পিস্তল ব্যবহার করে সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, ওই ফিলিস্তিনিরা মূলত ৩৫ নম্বর সড়কে বসতি স্থাপনকারীদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু হাইওয়েতে পৌঁছাতে না পেরে চেকপয়েন্টকে লক্ষ্যবস্তু করেন।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় ফিলিস্তিনিরা আশপাশের ভবনগুলো আড়াল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে বন্দুকযুদ্ধ চলে।

