ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আমাজন অঞ্চলের মুকাইয়া শহরে ভোটারদের মধ্যে ফ্লাভিও বোলসোনারোর প্রতি ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই এলাকাটি রোরিমা অঙ্গরাজ্যের সেই স্থান, যেখানে বোলসোনারো সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন। স্থানীয় অনেক বাসিন্দা মনে করেন, বোলসোনারো জয়ী হলে গত কয়েক বছরে খনি ব্যবসার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তা তুলে নেওয়া হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। মুকাইয়ার ভোটার রোসিমারি মন্টিরোর মতো অনেকে মনে করেন, বোলসোনারোই দেশের ভবিষ্যৎ এবং তিনি আমাজনের সম্পদকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাবেন।
তবে এই প্রবণতা আমাজনের আদিবাসী গোষ্ঠী ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে চরম আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। ইয়ানোমামি আদিবাসী নেতা জুনিয়র হেকুয়ারি সতর্ক করে বলেছেন, বোলসোনারোর জয় আদিবাসীদের জন্য একটি মৃত্যু পরোয়ানা হতে পারে। তার মতে, অতীতে বোলসোনারোর শাসনামলে অবৈধ খনি শ্রমিকদের অনুপ্রবেশের ফলে আদিবাসীরা ম্যালেরিয়া, পারদ বিষক্রিয়া ও অনাহারের মতো ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। লুলা দা সিলভার সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই অবৈধ খনি ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় এবং আমাজনের বন উজাড়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে।
বর্তমানে লুলার প্রশাসনের নিবেদিত খনি-বিরোধী অভিযানের নেতৃত্বদানকারী নিলটন তুবিনো মুকাইয়াকে অবৈধ খনি ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রথম দফার পর থেকেই এলাকায় খনি শ্রমিকদের সন্দেহজনক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। আদিবাসীদের আশঙ্কা, বোলসোনারো ক্ষমতায় ফিরলে পরিবেশ ও আদিবাসী সুরক্ষা সংস্থাকে আবারও কোণঠাসা করা হবে। লুলার সাবেক পরিবেশমন্ত্রী মারিনা সিলভা সতর্ক করে বলেছেন, এটি আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের জন্য একটি প্রাণঘাতী হুমকি।
মুকাইয়া ও আশেপাশের এলাকায় বোলসোনারোর সমর্থনের পেছনে খনি ব্যবসার আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি ইভানজেলিকাল চার্চের প্রভাবও কাজ করছে। অনেক ভোটার মনে করেন, বোলসোনারো খ্রিস্টান মূল্যবোধের রক্ষক এবং লুলার নীতির ঘোর বিরোধী। এছাড়া সংগঠিত অপরাধ দমনে বোলসোনারোর কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতিও ভোটারদের আকৃষ্ট করছে। অন্যদিকে, ইয়ানোমামি নেতা দাভি কোপেনাওয়া লুলার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে বোলসোনারোর জয় আদিবাসী ও অ-আদিবাসীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

