হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনার পর সেখান থেকে নির্গত তেল সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এই বিপর্যয়ের কারণে দেশটির বেশ কিছু সমুদ্র সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত ৯ থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জেম নং ২ নামক জাহাজটি থেকেই এই তেল নিঃসরণ ঘটছে। বুধবার নাগাদ তেলের এই আস্তরণটি ট্যাঙ্কার থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার (২২ মাইল) এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে, উম্ম আল কুয়াইন শহরের উত্তরের উপকূলীয় এলাকাগুলো এই বিপর্যয়ের কবলে পড়েছে। শুক্রবারের যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তেলের কারণে সমুদ্রের পানি কালো বর্ণ ধারণ করেছে এবং তা সৈকতে ভেসে আসছে। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিবেশের ক্ষতি কমাতে তারা দ্রুত কাজ শুরু করেছে।
শারজাহ মেরিন সায়েন্স রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক স্টিভ উইডিকম্ব জানিয়েছেন, সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর এর প্রভাব অনিবার্য, তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা নিরূপণ করতে আরও সময় প্রয়োজন। এর আগে ১৯ অক্টোবর জাহাজটি থেকে সামান্য তেল নিঃসরণ হতে দেখা গেলেও, পরবর্তী দুই দিনে তা দ্রুত বিস্তৃত হয়। এই তেল নিঃসরণ সিনিয়াহ ও খোর আল বাইদাহ দ্বীপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা প্রবাল প্রাচীর, সামুদ্রিক ঘাস ও লোনা পানির জলাভূমির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জীববৈচিত্র্য এলাকা। সংকটাপন্ন হালাভি গিটারফিশ ও সবুজ কচ্ছপের মতো প্রজাতিগুলো এখানে বাস করে।
কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরির বিজ্ঞানী ইওগান ডারবিশায়ার জানিয়েছেন, এই জীববৈচিত্র্য এলাকার কাছাকাছি তেল ছড়িয়ে পড়া পরিবেশের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। এদিকে, ভ্যানগার্ড নামক মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স ফার্মের তথ্য অনুযায়ী, পানামার পতাকাবাহী জেম নং ২ ট্যাঙ্কারটি ৯ অক্টোবর অজানা প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে জাহাজে আগুন ধরে যায়, যা পরবর্তীতে নিভিয়ে ফেলা হয়। যদিও ১১ অক্টোবর দুবাইয়ে ভারতীয় কনস্যুলেট জানায়, জাহাজের ২২ জন ক্রু সদস্যকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জাহাজ চলাচলের বিপরীতে ইরান তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এই হামলাগুলো চালাচ্ছে। গত আগস্টেও ইরানের কেশম দ্বীপের উপকূলে বড় ধরনের তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটেছিল, যা স্থানীয় বাস্তুসংস্থান ও মৎস্যজীবীদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

