দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দর নগরী বুসানের একটি সংকীর্ণ খাল থেকে বের করে দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর আবারও সেখানে ফিরে এসেছে 'বুকানগি' নামের ৩ মিটার (৯.৮ ফুট) দীর্ঘ একটি মাদী ডাস্কি হাঙ্গর। কয়েক সপ্তাহের চেষ্টা শেষে বুধবার বহু কর্মী ও ভাসমান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে হাঙ্গরটিকে খালের বাইরে বের করা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার রাতেই সেটি প্ল্যাটফর্মে বসানো একটি প্রতিবন্ধক জালের নিচ দিয়ে সাঁতরে পুনরায় খালে প্রবেশ করে। বর্তমানে নতুন উপায়ে এটিকে উন্মুক্ত সমুদ্রে ফেরত পাঠানোর পথ খুঁজছে বুসান কর্তৃপক্ষ ও দেশটির মহাসাগর ও মৎস্য মন্ত্রণালয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুকানগি এখন খালের প্রবেশমুখে থাকা প্রথম নেট এবং প্রায় ৫০ মিটার (৫৫ গজ) ভেতরে স্থাপিত দ্বিতীয় নেটের মধ্যবর্তী ছোট অংশে আটকা পড়ে অনবরত ঘুরপাক খাচ্ছে। ঘটনাস্থলে থাকা গবেষক ও উদ্ধারকর্মীরা কীভাবে তাকে নিরাপদে বের করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করছেন। মহাসাগর ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা লি গোয়াং-সক জানান, জালের ঘনত্ব এবং ওই অংশের খাল সংকীর্ণ হওয়ার কারণে হাঙ্গরটির আরও ভেতরের দিকে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
খালে এক মাস অবস্থানকালে হাঙ্গরটি নিয়মিত খাবার খাচ্ছিল না বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পানির তাপমাত্রা কমতে থাকায় তার স্বাস্থ্যের ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বুসান অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৬৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। ডাস্কি হাঙ্গর সাধারণ ট্রপিক্যাল ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ১৮ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে বসবাস করে এবং মাছ ও স্কুইড শিকার করে বেঁচে থাকে। দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমকারী এ প্রজাতির হাঙ্গর ৪.২ মিটার (১৩.৭ ফুট) পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। এদের বংশবৃদ্ধির হার ধীর হওয়ায় এরা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) এদের বিপন্ন প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বুসানের নর্থ পোর্টে প্রথম দেখা যাওয়ার পর স্থানটির অনুকরণে হাঙ্গরটির নাম রাখা হয় বুকানগি। খালের পানিতে ডানা ভাসিয়ে ধীরে ধীরে সাঁতার কাটা এই হাঙ্গরটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। বুসান শহর কর্তৃপক্ষ বুকানগিকে শহরের মাসকট হিসেবে গ্রহণ করে। এটি দেখতে খালের দুই পাশে ১৭ লাখেরও বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এমনকি বুধবারের বিশেষ উদ্ধার অভিযান দেখতেও খালপাড়ে শত শত মানুষ ভিড় জমান।
আন্তর্জাতিকভাবে ব্যস্ত বুসান বন্দরের তীব্র শব্দ, জাহাজের চলাচল, উজ্জ্বল আলো এবং সরঞ্জাম থেকে উৎপন্ন বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র হাঙ্গরটির অনুভূতিকে বিভ্রান্ত করে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাউথ কোরিয়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফিশারিজ সায়েন্সের সিনিয়র গবেষক কিম হিউন-উ জানান, এত কোলাহল থেকে দূরে এই সংকীর্ণ খালটিকে হয়তো হাঙ্গরটি নিরাপদ আশ্রয় মনে করেছে। তিনি বলেন, "দীর্ঘদিন খালে থাকার কারণে সে যে সরাসরি উন্মুক্ত সমুদ্রে চলে যাবে, তা আমি আশা করিনি। হাঙ্গরটিকে নিজের মতো করে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য প্রায় এক সপ্তাহ সময় দেওয়া সবচেয়ে ভালো হবে।"
বুসান কর্তৃপক্ষ এখনো নতুন উদ্ধার অভিযান শুরুর সময় নিশ্চিত করেনি। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ও ২ অক্টোবরেও নৌকা থেকে পানির ধারা ছিটিয়ে এবং জালে ঘেরা দিয়ে দুটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল, যা এড়িয়ে সাঁতরে পার হয়ে যায় বুকানগি। বুধবারের সফল প্রচেষ্টাটি মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ব্যর্থ হওয়ায় উদ্ধারকারী ও সামুদ্রিক বিজ্ঞানীরা এখন হাঙ্গরটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তার নিজস্ব গতিতে সমুদ্রে ফেরার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

