যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়া ই-কোলাই (E. coli) প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে জনপ্রিয় চেইন শপ ট্রেডার জো’স-এর চিকেন র্যাপসকে শনাক্ত করেছে ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ট্রেডার জো’স কর্তৃপক্ষ গত ২০ অক্টোবর ইউএসএ টুডেকে পাঠানো এক ইমেইলে জানায়, সেপ্টেম্বরে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) কাছ থেকে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর তারা ৯টি অঙ্গরাজ্য থেকে তাদের 'টারাগন চিকেন সালাদ র্যাপস' সরিয়ে নিয়েছে।
ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস (এফএসআইএস) জানিয়েছে, ই-কোলাই ও১৫৭:এইচ৭ (2026-04) প্রাদুর্ভাবের তদন্তে দেখা গেছে, অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণ একটি বিষয় ছিল রেডি-টু-ইট বা তৈরি করা মাল্টি-ইনগ্রেডিয়েন্ট চিকেন র্যাপস খাওয়া। সংস্থাটির মতে, প্রাদুর্ভাবের সাথে সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত হওয়ার আগেই ট্রেডার জো’স সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাজার থেকে পণ্যগুলো সরিয়ে নিয়েছিল।
এফডিএ এবং ইউএসডিএ আগে প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে শুধুমাত্র 'চিকেনযুক্ত রেডি-টু-ইট মাল্টি-ইনগ্রেডিয়েন্ট র্যাপস'-এর কথা উল্লেখ করেছিল। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার পর্যন্ত সরকারি নথিতে উৎস হিসেবে অনির্দিষ্ট র্যাপসের কথাই বলা হয়েছে। ইউএসডিএ বর্তমানে অন্যান্য এজেন্সির সাথে মিলে প্রকৃত উপাদানটি শনাক্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সংস্থাটির ভাষ্যমতে, চিকেন থেকে সাধারণত ই-কোলাই ও১৫৭:এইচ৭ (যাকে শাইগা টক্সিন উৎপাদনকারী ই-কোলাই বা এসটিইসি বলা হয়) ছড়ানোর সম্ভাবনা কম। এই ব্যাকটেরিয়া অনেক সময় হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোমের মতো জটিল কিডনি রোগের কারণ হতে পারে।
খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক আইনজীবী বিল মারলার, যিনি এই র্যাপস খেয়ে অসুস্থ হওয়া দুজন নারীর প্রতিনিধিত্ব করছেন, কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এর উৎস সম্পর্কে জনসমক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা উচিত ছিল। তার মতে, জনগণের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে।
এফএসআইএস তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, যখন কোনো পণ্যের সাথে অসুস্থতার যোগসূত্র পাওয়া যায় এবং ভোক্তাদের জন্য কার্যকর তথ্য থাকে, তখন তারা দ্রুত রিকল বা স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে। তারা ভবিষ্যতে কোনো জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি চিহ্নিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

