ফেনীতে খোলা বাজারে বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রমের আওতায় বরাদ্দ কম থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। দুই থেকে তিন ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও চাল ও আটা না পেয়ে অনেককেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে ভোর থেকেই পণ্য কেনার জন্য ভিড় জমান সাধারণ মানুষ। নিয়ম অনুযায়ী, জনপ্রতি পাঁচ কেজি চাল ৩০ টাকা দরে এবং পাঁচ কেজি আটা ২৪ টাকা দরে কেনার সুযোগ থাকলেও বরাদ্দের সীমাবদ্ধতায় তা সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। কোনো কোনো সপ্তাহে একদিন, আবার কোনো সপ্তাহে দুদিন পণ্য কেনার সুযোগ মেলে।
ফেনী পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ১৬ বছর আগে ওএমএস কার্যক্রম শুরু হলেও কেন্দ্রের সংখ্যা মাত্র ছয়টিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। চাহিদার তুলনায় এই অপ্রতুল কেন্দ্রের কারণে সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে তিন দিন এই কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। স্থানীয় ডিলার মো. আকবর হোসেন জানান, কোনো সপ্তাহে দুদিন আবার কোনো সপ্তাহে তিন দিন তিনি পণ্য বরাদ্দ পান। প্রতি বরাদ্দে ৭৫০ কেজি চাল ও ৭৫০ কেজি আটা দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বিক্রি চললেও বরাদ্দ কম থাকায় চাহিদার পুরোটা মেটানো সম্ভব হয় না। তিনি মনে করেন, সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন এক টন করে চাল ও আটা বরাদ্দ দেওয়া হলে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমত।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে পৌরসভার জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার, যা বর্তমানে বেড়ে ২ লাখ ৭৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সূত্রটির হিসাবে এ সময়ে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ। এছাড়া ফেনীতে স্টার লাইন গ্রুপের ১৭টি শিল্পকারখানা, আবুল খায়ের ম্যাচ ফ্যাক্টরি, কোয়ালিটি জুটমিলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাজারো শ্রমিক কাজ করেন। তাদের অনেকে স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য কিনতে ছুটে আসেন, কিন্তু পর্যাপ্ত বিক্রয়কেন্দ্র ও বরাদ্দ না থাকায় অনেকেই ওএমএসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাশের জেলা কুমিল্লায় কয়েক দফায় বাড়িয়ে ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ৩২ করা হয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীতে ১৭টি, চাঁদপুরে ১৫টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব জেলার তুলনায় ফেনীতে বিক্রয়কেন্দ্র কম থাকায় স্থানীয় চাহিদার পুরোটা পূরণ করা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আলাউদ্দিন ঢালী জানান, ১৮টি ওয়ার্ডে মাত্র ছয়টি কেন্দ্র থাকায় একদিন ১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এবং পরের দিন ৭ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে কার্যক্রম চালাতে হয়। এভাবে এক এলাকায় বিক্রি বন্ধ রেখে অন্য এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন তিন টন চাল ও আটা ট্রাকের মাধ্যমে বিক্রির বরাদ্দ থাকলেও ফেনীতে এ ধরনের কোনো বরাদ্দ নেই। ফলে এখানে ওএমএসের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। বিক্রয়কেন্দ্র ও বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি চালুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ফেনীর জেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, ফেনীতে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা কম নয়। অন্য জেলা থেকেও অনেকে কাজের সন্ধানে এ জেলায় আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ওএমএসের বিক্রয়কেন্দ্র বাড়ানো হয়নি, যা হতাশাজনক।
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫: ১৪আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫: ১৪

