অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও যেকোনো জাতীয় সংকটে গণঅধিকার পরিষদ জনগণকে পথ দেখাবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি জানান, রাজপথের টানা আন্দোলন, রক্ত ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র সংস্কার এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাবে।
সোমবার সকালে রাজধানীর আল রাজি কমপ্লেক্সে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় নুরুল হক নুর এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তাদের রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো প্রতিটি বড় রাজনৈতিক মোড়ে গণঅধিকার পরিষদ ও এর নেতাকর্মীরা সামনের কাতারে থেকে ভূমিকা রেখেছেন।
নুরুল হক নুর তাঁর বক্তব্যে ২০২১ সালে দলটির প্রতিষ্ঠার সময় ঘোষিত ২১ দফা রূপরেখার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, শুরু থেকেই গণঅধিকার পরিষদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়ন এবং কোনো ব্যক্তি যেন দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে না পারেন—এমন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরে আসছে। গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করার এসব প্রস্তাবনা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলটির মূল লক্ষ্য ছিল।
দলের অবস্থান তুলে ধরে নুরুল হক নুর আরও বলেন, গণঅধিকার পরিষদের নেতারা কোনো অলৌকিক ঘটনায় বা হুট করে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাননি। রাজপথের সংগ্রাম, নির্যাতন ও ত্যাগের বিনিময়ে জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াই করতে করতেই দলটি আজকের স্থানে এসেছে। জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণঅধিকার পরিষদকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার নানা অপচেষ্টা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্র কখনো সফল হবে না।
অনুষ্ঠানে গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন বলেন, তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ২০১৮ সালে যে কোটা সংস্কার আন্দোলন হয়েছিল, তা সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা বাতিলের পথ তৈরি করে। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের মাধ্যমেই ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জন্ম নেয় গণঅধিকার পরিষদ। আগামী দিনেও গণঅধিকার পরিষদ দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় রাজপথে সোচ্চার থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম ফাহিমের পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন দলের সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান, মুখপাত্র আবু হানিফ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আব্দুর রহিম, মহানগর দক্ষিণের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি নাদিম হাসান, আইনজীবী অধিকার পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট খালিদ হাসান এবং বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হকসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

