প্রধান কোচ রুবেন আমোরিমের অধীনে এসি মিলানের পারফরম্যান্সে সম্ভাবনার ছাপ দেখা গেলেও দলটিকে এখনই ইতালিয়ান সিরি আ শিরোপার অন্যতম দাবিদার বলতে রাজি নন ক্লাবের সাবেক কিংবদন্তি ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তা। তার মতে, খেলোয়াড়দের ইতিবাচক মানসিকতা প্রশংসনীয় হলেও তাদের মধ্যে এখনো ‘স্কুদেত্তো’ বা শিরোপাজয়ী দলের পূর্ণতা আসেনি।
২০২৬-২৭ মৌসুমে সিরি আ-তে এখন পর্যন্ত আট ম্যাচ খেলে অপরাজিত রয়েছে এসি মিলান। একই অর্জন রয়েছে ইন্টার মিলান, লাৎসিও ও রোমারও। ইতালির শীর্ষ লিগের ইতিহাসে এই প্রথম শুরুর আট ম্যাচ শেষে একই সঙ্গে চারটি দল অপরাজিত থাকার কীর্তি গড়ল। গত সপ্তাহে ইউরোপা লিগে এএফসি বোর্নমাউথের কাছে হতাশাজনক হারের পর রোববার রাতে সিরি আ-তে ঘুরে দাঁড়ায় মিলান। উদিনেসের বিপক্ষে তাদেরই মাঠে ২-০ গোলের জয় তুলে নেয় আমোরিমের শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় তিন নম্বরে থাকা রোমার সমান পয়েন্ট অর্জন করেছে মিলান এবং শীর্ষে থাকা ইন্টার ও লাৎসিওর চেয়ে মাত্র চার পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে।
রোববার উদিনেসের বিপক্ষে ম্যাচটিতে স্কাই স্পোর্টসের বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় মিলানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলেন কোস্তাকুর্তা। ক্লাবের এই সাবেক তারকা জানান, খেলায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও শিরোপা লড়াইয়ের প্রতিযোগিতায় মিলান কিছুটা পিছিয়ে আছে। তিনি বলেন, "আমি এমন খেলোয়াড়দের দেখছি যারা খুব নিখুঁতভাবে তাদের কোচের নির্দেশনা মেনে চলছে। মাঠে তাদের যে মনোভাব দেখা যাচ্ছে, তা আমার পছন্দ হয়েছে। তবে আমি এখনো একটি স্কুদেত্তোজয়ী দল দেখতে পাচ্ছি না। আমার মনে হয় এই মুহূর্তে তাদের চেয়ে অন্য দু-একটি দল এগিয়ে রয়েছে। তবে মৌসুমের এখনও অনেক বাকি এবং দলটি দারুণ সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।"
আমোরিমের কৌশলগত পরিবর্তনের প্রশংসাও করেন কোস্তাকুর্তা। তিনি উল্লেখ করেন, মাঠের ফুটবলে আক্রমণাত্মক ভাবই মিলানের প্রধান পার্থক্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোস্তাকুর্তার ভাষায়, "আমি কেবল একটি সম্ভাবনাময় দল দেখতে পাচ্ছি। সামনের দিকে তাদের দৌড়ানোর প্রবণতা অনেক বেশি। শুধু বল উদ্ধারের সময় নয়, যখন তারা আক্রমণ গোছানোর চেষ্টা করে তখনও এই আক্রমণাত্মক তাড়না লক্ষ্য করার মতো। আমার বিশ্বাস, এখন পর্যন্ত তাদের দেখানো সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এটিই। তারা সবসময় প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলায় মেতে থাকছে।"
মিলানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রুবেন আমোরিম বিভিন্ন ফরমেশন ও সিস্টেমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন এবং মূল একাদশেও নিয়মিত পরিবর্তন এনেছেন। এই প্রক্রিয়ায় একাদশে সুযোগের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে তরুণ খেলোয়াড় দাভিদে বার্তেসাঘিকে। তবে উদিনেসের বিরুদ্ধে খেলায় সুযোগ পেয়েই তিনি ছিলেন ম্যাচের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।
বার্তেসাঘির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে কোস্তাকুর্তা বলেন, "বার্তেসাঘি চমৎকার এক ম্যাচ খেলেছে। ওর পারফরম্যান্সে আমি উচ্ছ্বসিত, কারণ সে খেলায় নিজেকে খুব ভালোভাবে যুক্ত করেছে এবং সবসময় গুণগত মান বজায় রেখে খেলেছে। মনে হচ্ছে দলের পরিকল্পনাটাই এমন: বল পায়ে থাকুক বা না থাকুক, সবসময় আক্রমণে নজর রাখতে হবে।"

