অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক খুনি ভেজিমেট খাওয়ার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন, যা সোমবার সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারক খারিজ করে দিয়েছেন। ৫৪ বছর বয়সী আন্দ্রে ম্যাককেকনি ২০০৬ সাল থেকে কার্যকর এই নিষেধাজ্ঞাটিকে তার 'সাংস্কৃতিক অধিকার' ক্ষুণ্ণ করার শামিল বলে দাবি করেছিলেন।
ম্যাককেকনি তার আবেদনে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই লবণাক্ত ইস্ট-ভিত্তিক খাদ্যপণ্যটি থেকে তাকে বঞ্চিত করা মানে তার সাংস্কৃতিক চর্চার অধিকারকে অস্বীকার করা। ভিক্টোরিয়ার বিচার বিভাগ ও সংশোধনমূলক দপ্তরের বিরুদ্ধে করা এই মামলায় তিনি দাবি করেন, কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী বন্দিদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক। তবে বিচারক তার এই যুক্তির সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাননি বলে জানিয়েছেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, বন্দি হওয়ার কারণে একজন ব্যক্তির সাংস্কৃতিক অধিকার সীমিত হতে পারে। বিচারক উল্লেখ করেন, ম্যাককেকনির সাংস্কৃতিক অধিকার মূলত তার কারাদণ্ড ভোগের শর্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ।
কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, ভেজিমেটের কড়া গন্ধ ব্যবহার করে বন্দিরা মাদক জাতীয় নিষিদ্ধ বস্তু লুকিয়ে রাখতে পারে অথবা কারাগারের ভেতরে মদ তৈরি করতে পারে। এছাড়া, ভেজিমেটের তীব্র গন্ধ মাদক শনাক্তকারী কুকুরের কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলেও প্রমাণ উপস্থাপন করেছে কারেকশনস ভিক্টোরিয়া।
উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকে কুইন্সল্যান্ডে এক রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে ম্যাককেকনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। কুইন্সল্যান্ডে সাজা ভোগের পর তাকে ভিক্টোরিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। ভিক্টোরিয়া ছাড়াও কুইন্সল্যান্ড, সাউথ অস্ট্রেলিয়া এবং তাসমানিয়ার কারাগারেও ভেজিমেট নিষিদ্ধ রয়েছে। ১৯২৩ সালে মেলবোর্নে উদ্ভাবিত এই খাবারটি নিয়ে গত বছর কানাডায় এক ক্যাফে মালিকের সঙ্গে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যেখানে তাকে ভেজিমেটের জার সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

