হাইতির সরকার নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। দেশটির প্রভিশনাল ইলেক্টোরাল কাউন্সিল বুধবার জানিয়েছে, সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপ ১৮ জুলাই এবং দ্বিতীয় ধাপ ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হাইতিতে কোনো নির্বাচন হয়নি এবং দেশটিতে বর্তমানে কোনো নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নেই। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইসের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দেশটির প্রেসিডেন্সির পদটি শূন্য রয়েছে।
নির্বাচন আয়োজনের অংশ হিসেবে, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও সিনেট পদের প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং ২০ মে ভোটার নিবন্ধনের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচনের প্রথম ধাপ ১৩ ডিসেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলে গ্যাং সহিংসতার কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
গ্যাং দমনের লড়াইয়ে হাইতির পুলিশ ও সেনাদের সহায়তায় এল সালভাদর থেকে দুই হাজারেরও বেশি সেনা দেশটিতে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীর সাথে কাজ করা এল সালভাদরের চারজন এভিয়েশন টেকনিশিয়ান গত ১৮ অক্টোবর রাজধানী থেকে অপহৃত হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। হাইতি সরকার দাবি করেছে, ওই টেকনিশিয়ানদের অপহরণ করা হয়েছে এবং তাদের উদ্ধারের জন্য এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে এই বিশাল বাহিনী পাঠিয়েছেন। এল সালভাদরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট বুকেলে এ বিষয়ে হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমের সাথে নিরাপত্তা অভিযান নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে হাইতিতে এল সালভাদরের সেনাদের ভূমিকা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ এগেইনস্ট ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইমের হাইতি অবজারভেটরির প্রধান রোমেইন লে কোর জানিয়েছেন, এই সেনাদের কাজের নিয়ম, কমান্ডের ধারা এবং মিশনের উদ্দেশ্য এখনো অস্পষ্ট। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে এই সেনাদের মোতায়েন করা হলেও জাতিসংঘ সমর্থিত বাহিনীর সাথে তাদের সমন্বয় কীভাবে কাজ করবে। এছাড়া গ্যাং নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ওই টেকনিশিয়ানরা কেন গিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
এদিকে গ্যাং এবং আন্তর্জাতিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ফলে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে তারা গুলি ও ড্রোন হামলায় আহত ৩০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে। সংস্থাটির হাইতি মিশনের প্রধান দাভিনা হেইলস জানিয়েছেন, সড়ক ও সেতু বন্ধ থাকায় আহতদের জন্য চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত হাইতিতে অন্তত ৫,৭০০ জন নিহত বা আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা হয়।

