যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আগে সামরিক অভিযান বন্ধের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ক্রেমলিন। শুক্রবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মস্কো এমন কোনো যুদ্ধবিরতির বিরোধী, যা ইউক্রেনকে যুদ্ধের ময়দানে কিছুটা স্বস্তি বা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।
আগামী নভেম্বরে আবুধাবিতে এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। তবে পেসকভ স্পষ্ট করেছেন যে, এই আলোচনার প্রস্তুতির অর্থ এই নয় যে চলমান লড়াইয়ে কোনো বিরতি দেওয়া হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে ইউক্রেনকে কোনো ধরনের অবকাশ দেওয়ার পক্ষে নয় মস্কো।
এই আলোচনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে পেসকভ বলেন, কোনো এক পর্যায়ে ইউরোপীয়দের সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন হতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়নি। এছাড়া ইউক্রেনীয় বাহিনী কর্তৃক রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলার বিষয়টিও আসন্ন আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মস্কো আবুধাবির বৈঠকে এই বিষয়টি উত্থাপন করার পরিকল্পনা করছে না, কারণ এটি মূলত ওয়াশিংটন ও কিয়েভের আলোচনার বিষয়।
এদিকে, যুদ্ধ অবসানে আলোচনার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র পলা পিনহো সাংবাদিকদের বলেন, তারা দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং রাশিয়া কখন আলোচনার টেবিলে আসার মতো বাস্তবসম্মত অবস্থানে পৌঁছাবে, তার অপেক্ষায় রয়েছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের নেতারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের লজিস্টিক সেন্টার, বন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। উভয় দেশই বেসামরিক অবকাঠামোয় ইচ্ছাকৃত হামলার কথা অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের লক্ষ্যবস্তু সামরিক বা সামরিক অভিযানের সহায়ক স্থাপনা বলে দাবি করছে।
এদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ইউক্রেন অনানুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা স্থগিত করেছে। এই অনানুষ্ঠানিক বিরতি গত সপ্তাহের শুরুর দিকে শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী সময় পর্যন্ত চলতে পারে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো বিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

