বাংলাদেশে এসে স্বাগতিকদের হারানো সব সময়ই কঠিন, তবে মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই অসাধ্য সাধন করেছে। এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা দারুণ আধিপত্য দেখিয়েছেন এবং বাংলাদেশের স্পিনারদের তুলনায় বেশি সফল ছিলেন। সফরকারীরা ম্যাচে মোট ১৬টি উইকেট নিয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের স্পিনাররা নিয়েছেন আটটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেছেন বাঁহাতি স্পিনার জমেল ওয়ারিকান। তিনি পুরো ম্যাচে নয়টি উইকেট শিকার করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন।
ম্যাচ জয়ের পর সতীর্থ জমেল ওয়ারিকানের প্রশংসা করে রোস্টন চেজ বলেন, আমাদের স্পিন আক্রমণ বেশ শক্তিশালী, যার নেতৃত্বে আছেন ওয়ারিকান। আমরা অনেক বছর ধরে একে অপরকে চিনি, এমনকি আমরা একই স্কুলে পড়েছি। সে একজন দক্ষ বোলার এবং সুযোগ পেলেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। সে আমাদের স্পিন বোলিং ইউনিটের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। তার বোলিং ছিল সত্যিই দুর্দান্ত।
চেজ মনে করেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসাররাও রান রেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, প্রথম দিনের দ্বিতীয় ঘণ্টার পর থেকেই আমরা দারুণ ছন্দে ছিলাম এবং সঠিক লাইন-লেন্থে বোলিং করে বাংলাদেশের ব্যাটারদের চাপে ফেলেছিলাম। ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাটা ছিল আমাদের সাফল্যের চাবিকাঠি। বিশেষ করে শেষ ইনিংসে লক্ষ্য তাড়া করা কঠিন, তাই তাদের লিড খুব বেশি বাড়তে না দেওয়াটা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত চারটি উইকেট তুলে নিয়ে আমরা তাদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিলাম, এরপর কেবল ধৈর্য ধরে বাকি কাজটা সারতে হয়েছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করার সময় পিচের কঠিন পরিস্থিতিতে ওপেনার ব্র্যান্ডন কিংয়ের ইতিবাচক ব্যাটিংয়েরও প্রশংসা করেন চেজ। কিং ১১৫ বলে অপরাজিত ৮১ রান করেন, যার মধ্যে ছিল দশটি চার ও একটি ছক্কা। চেজ বলেন, ব্র্যান্ডন খুব আত্মবিশ্বাসী ছিল এবং পায়ের ব্যবহার করে স্পিনারদের ওপর চড়াও হয়েছে। সে যখন ছন্দে থাকে, তখন খুব দ্রুত রান তোলে। তার এই ব্যাটিং বাংলাদেশের বোলারদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
ম্যাচের আগে পিচের অবস্থা বিবেচনা করে অভিজ্ঞ পেসার কেমার রোচকে বাদ দিয়ে বাঁহাতি স্পিনার জশুয়া বিশপকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল বলে মনে করেন চেজ। প্রথম দিনে পিচ থেকে ঘাস সরিয়ে ফেলায় এটি স্পিনারদের জন্য সহায়ক হয়ে ওঠে। জশুয়া বিশপ প্রথম ইনিংসে দুই উইকেট নিয়ে ওয়ারিকানকে দারুণ সহায়তা করেছেন এবং পুরো দল পিচ পড়ার ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে বলে চেজ মন্তব্য করেন।

