নিপল স্টিমুলেশনের পর হঠাৎ করে তীব্র বিষণ্ণতা, অস্থিরতা বা গৃহকাতরতার মতো অনুভূতি হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় স্যাড নিপল সিনড্রোম (SNS) বলা হয়। সান্ড্রা নামের ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মতে, কাপড় পরা বা তোয়ালে দিয়ে শরীর মোছার মতো সাধারণ কাজও এই অনুভূতির কারণ হতে পারে। অনেক ভুক্তভোগী একে 'নিপল টাচ অফ ডুম' বা বিপদের স্পর্শ বলে অভিহিত করেন।
স্যাড নিপল সিনড্রোম সাধারণত ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনুভূত হয় এবং এর ফলে সৃষ্ট অস্বস্তি কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে। ভুক্তভোগীদের মতে, এটি হঠাৎ কোনো খারাপ স্মৃতি বা গভীর দুঃখের অনুভূতির মতো মনে হয়। সান্ড্রা জানান, নিজে থেকে স্পর্শ করলে এই নেতিবাচক অনুভূতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, আর কাপড়ের ঘর্ষণে এটি আরও তীব্র হতে পারে।
বর্তমানে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক চিকিৎসাগত রোগ হিসেবে স্বীকৃত নয় এবং এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণাও সীমিত। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শারীরিক স্পর্শের মাধ্যমে নিঃসৃত 'লাভ হরমোন' অক্সিটোসিনের সাথে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। পাভোল জোজেফ সাফারিক ইউনিভার্সিটির গাইনোকোলজি বিভাগের ড. ভ্লাদিমির ক্রাউস জানান, নিপল স্টিমুলেশন অক্সিটোসিন নিঃসরণ করে, যা হয়তো কোনো সূক্ষ্ম পরিবর্তনের কারণে ভুল সংকেত পাঠিয়ে এই নেতিবাচক অনুভূতি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা এটিকে ডিসফোরিক মিল্ক ইজেকশন রিফ্লেক্স (D-MER) এবং পোস্ট-কোইটাল ডিসফোরিয়ার সাথে তুলনা করেন। ল্যাকটেশন কনসালটেন্ট আলিয়া ম্যাক্রিনা হাইসের মতে, যিনি ২০০০-এর দশকে প্রথম কোনো সহকর্মীর কাছে এসএনএস-এর কথা শুনেছিলেন, প্রোল্যাকটিন এবং ডোপামিনের হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা এর পেছনে কাজ করতে পারে। ডোপামিন মেজাজ স্থিতিশীল রাখার কাজ করে, কিন্তু প্রোল্যাকটিন নিঃসরণের সময় এর অস্বাভাবিক কার্যকলাপ মেজাজের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এই অবস্থার কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, তবে কিছু ক্ষেত্রে কোল্ড থেরাপি বা ঠান্ডা পানির ব্যবহার উপশম দিতে পারে বলে মনে করা হয়। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, এ বিষয়ে সঙ্গীর সাথে খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি। এটি কোনো মানসিক রোগ নয় বরং একটি শারীরিক প্রতিক্রিয়া, যা নিয়ে লজ্জা না পেয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

