সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া দীর্ঘদিনের পারিবারিক যোগাযোগকে বিচ্ছিন্ন করে রাখলেও, শেষ পর্যন্ত মানবিকতার জয় হয়েছে। মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর বাংলাদেশে বসবাসরত বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুন তার মৃত বাবাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার স্বাধীনতা সড়কের ১০৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখায় বেলতলায় এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি ঘটে।
মৃত মোনরুদ্দিন শেখের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছরেরও বেশি। তিনি তিন ছেলে ও তিন মেয়েসহ মোট ছয় সন্তানের জনক ছিলেন। তার বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুনের বিয়ে হয়েছিল প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছর আগে। বিয়ের পর থেকেই তিনি বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের সোনাপুর নতুন পাড়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ফিরদৌসী খাতুন তাকে শেষবারের মতো দেখার আকুতি জানান। এই মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিজিবি ও বিএসএফ—তাকে শূন্যরেখায় বাবাকে দেখার সুযোগ করে দেয়। এই মানবিক সহায়তার জন্য পরিবারের সদস্যরা উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

