স্পেনের মাদ্রিদ-সেভিল হাই-স্পিড রেললাইনে গত মাসে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তহবিলের অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইইউ প্রসিকিউটররা এই রেললাইনের নিরাপত্তা, সিগন্যালিং এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সম্ভাব্য জালিয়াতি খতিয়ে দেখছেন।
ইউরোপীয় পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস (ইপিইপিও) জানিয়েছে, তারা স্পেনের রেল অবকাঠামো কর্তৃপক্ষ ‘আদিফ’ (Adif) এবং রেল নিরাপত্তা সংস্থা ‘এইএসএফ’ (AESF)-এর অফিসে অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। এই তদন্তে স্পেনের সিভিল গার্ড বা ‘গার্ডিয়া সিভিল’-এর একটি বিশেষ ইউনিট প্রসিকিউটরদের সহায়তা করছে।
গত ২৮ অক্টোবর মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে উরদা গ্রামের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে রাষ্ট্রীয় অপারেটর রেনফের একটি ট্রেন অপর একটি স্থবির ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। জানা গেছে, ট্রেনের অবস্থান নির্ণায়ক এলজেডবি (LZB) যোগাযোগ ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়েছিল। এর ফলে রেনফের ট্রেনটিকে স্বাভাবিক গতিতে চলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যদিও সামনের আইরিও কোম্পানির ট্রেনটি তখনও চালু হতে ব্যর্থ হয়েছিল।
চলতি বছরে একই রেললাইনে এটি দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা। এর আগে জানুয়ারি মাসে আদামুজে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। নয় মাসের ব্যবধানে ঘটা এই দুই দুর্ঘটনায় মোট ১১৫ জনের প্রাণহানি ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
এই ঘটনা স্পেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রভাব ফেলেছে। ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের জন্য এটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার পর দায়বদ্ধতা নিয়ে চাপের মুখে পরিবহন মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে পদত্যাগ করেছেন। তার স্থলাভিষিক্ত কার্লোস কুয়েরপো স্পেনের হাই-স্পিড রেলের ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আগামী মঙ্গলবার তোলেদো ক্যাথেড্রালে উরদা দুর্ঘটনার ৬৯ জন ভুক্তভোগীর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, কুয়েরপো জানুয়ারির দুর্ঘটনার বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, যারা রেল নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য ১১ দফা দাবি পেশ করেছেন।

