সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড এখন এক নতুন রূপ পাচ্ছে। গত ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে দীর্ঘদিনের শাসক আলেকসান্ডার ভুচিচ ও তার ডানপন্থী সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির পরাজয়ের পর শহরজুড়ে শুরু হয়েছে এক তরুণ-নেতৃত্বাধীন পরিচ্ছন্নতা অভিযান। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মীরা শহরটির বিভিন্ন দেয়ালে থাকা বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি মুছে ফেলছেন।
নির্বাচনের পর থেকেই এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়, যা ১৪ বছর ধরে চলা ভুচিচের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে এক ধরনের সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার বেলগ্রেডের তিনটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে রঙ ও ব্রাশ নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। তারা নিজ নিজ এলাকার দেয়ালে থাকা আপত্তিকর স্লোগান ও গ্রাফিতি মুছে ফেলার কাজ শুরু করে।
বেলগ্রেডের থার্ড হাই স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্কুল ছাত্র সংসদের প্রধান ১৮ বছর বয়সী লি রাদিচ বলেন, তারা শুধু দেশকে নয়, বরং নিজেদের শহরকেও সুন্দর করে তুলতে চান। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে নিয়ে সমন্বিতভাবে এই কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, তাদের উদ্দেশ্য হলো ভালো কাজ করা এবং পরিবেশকে সুন্দর করে তোলা।
এর আগে, ভুচিচের সমর্থকরা দীর্ঘ এক বছর ধরে শহরের একটি কেন্দ্রীয় পার্ক দখল করে রেখেছিল। নির্বাচনের পর বাসিন্দারা প্রথমে সেই পার্ক পরিষ্কার করেন। এরপর থেকে পুরো শহরজুড়ে বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কোস্টা জোভানোভিচ জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মুছে ফেলা, যাতে ছোট শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে এসব অপমানজনক লেখা ও ম্যুরালের মুখোমুখি না হয়।
উল্লেখ্য যে, এই তরুণ-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনটি ভুচিচকে পরাজিত করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। গত দুই বছর ধরে তারা বিভিন্ন দুর্নীতি, বিশেষ করে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলে ট্রেন স্টেশনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। যদিও ভুচিচ ও তার সমর্থিত গণমাধ্যম শিক্ষার্থীদের বিদেশি মদদপুষ্ট ও বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল এবং অনেককে পুলিশ ও সমর্থকদের দ্বারা নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছিল, তবুও স্থানীয় বাসিন্দারা শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ৬০ বছর বয়সী লেটা লালেভিচ বলেন, এই দৃশ্য এতটাই সুন্দর যে তা দেখে তার কান্না পাচ্ছে।

