জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদের জন্য তুরস্কের মনোনীত প্রার্থী ফেরিডুন সিনিরলিওগলু নির্বাচিত হলে বিশ্বের জন্য আরও সমৃদ্ধ ও ন্যায়পরায়ণ ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। মহাসচিব পদের নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে এক সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তিনি তার সমস্ত অভিজ্ঞতা, শক্তি এবং প্রতিশ্রুতি জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য অর্জনে উৎসর্গ করতে চান। তিনি জাতিসংঘ সনদের লক্ষ্য ও নীতিগুলোর প্রতি কঠোর আনুগত্য, স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশীদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সিনিরলিওগলু বর্তমানে ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বিষয়ক সংস্থা (ওএসসিই)-এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্ব বর্তমানে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে। সিনিরলিওগলু বলেন, মানবাধিকারের লঙ্ঘন প্রকাশ্যে ঘটছে এবং দ্বিমুখী নীতির কারণে তা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, তিনি এই পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন কারণ তিনি বিশ্বাস করেন জাতিসংঘ নিখুঁত না হলেও এটি অপরিহার্য। তিনি একজন সক্রিয় ও অভিজ্ঞ কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো স্থানে সরাসরি উপস্থিত থাকতে প্রস্তুত। তার মতে, যাদের সাথে মতপার্থক্য রয়েছে তাদের সাথে আলোচনা করা কোনো ছাড় নয়, বরং এটি একটি দায়িত্ব।
সিনিরলিওগলু তার পাঁচটি প্রধান অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেছেন: সংঘাত প্রতিরোধ ও সমাধান, বহুপাক্ষিকতায় আস্থা পুনরুদ্ধার, উদীয়মান চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি, টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষা। তিনি জাতিসংঘের কার্যকারিতা বাড়াতে এটিকে আরও চটপটে, স্বচ্ছ, ডিজিটাল সক্ষম এবং আর্থিকভাবে দায়িত্বশীল করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে করদাতাদের জানা প্রয়োজন তাদের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং এর প্রভাব কী।
ফিলিস্তিন ইস্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহাসচিব হিসেবে তিনি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের বিষয়টি তার রাজনৈতিক এজেন্ডার অগ্রভাগে রাখবেন। ফিলিস্তিন সমস্যার একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধান আরব বিশ্বের পাশাপাশি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। এছাড়া লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর যেকোনো হামলা, নাবিকদের প্রতি হুমকি এবং চলাচলের ওপর অন্যায্য বিধিনিষেধকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন। তিনি নিজেকে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সময়ে এই সংস্থা পরিচালনার জন্য সঠিক ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেছেন।

