অস্কারজয়ী অভিনেত্রী মিশেল ইয়োহ বর্তমানে সায়েন্স-ফিকশন সিরিজ 'ব্লেড রানার ২০৯৯'-এর কাজে ব্যস্ত। এই প্রকল্পে তিনি 'অলওয়েন' নামক একজন কৃত্রিম মানুষ বা রেপ্লিক্যান্টের চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সিরিজের নির্মাতা সিলকা লুইসা তাকে একটি আবেগপূর্ণ চিঠি লিখেছিলেন। ইয়োহ জানান, তিনি কোনো সাধারণ মানুষের চরিত্রে অভিনয় করতে আগ্রহী ছিলেন না। অলওয়েন চরিত্রটি সম্পর্কে তিনি বলেন, তার চোখে এক ধরনের শীতলতা রয়েছে এবং তার নড়াচড়া অনেকটা ড্রাগন বা সাপের মতো সাবলীল, যা তাকে সাধারণ রোবট থেকে আলাদা করে তোলে।
ইয়োহ জানান, ব্লেড রানার ২০৯৯-এর প্রস্তুতি পর্বে তিনি বারবার ভেবেছেন যে মানবিকতা আসলে কী। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের এই যুগে সিরিজটি বেশ সময়োপযোগী। তার সহশিল্পী হান্টার শেফার এই সিরিজে কোরা চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি একজন রেপ্লিক্যান্ট পুলিশ। ইয়োহের মতে, ল্যাবরেটরিতে তৈরি চরিত্রগুলোর শৈশব না থাকায় তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কোনো ধারণা নেই, যা তাদের ভীতিজনক করে তোলে।
মালয়েশিয়ার ইপোহ শহরে বেড়ে ওঠা ইয়োহ ছোটবেলা থেকেই অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ছিলেন। তার বাবা দাতুক ইয়োহ কিয়ান-তেক ছিলেন একজন আইনজীবী এবং মা জ্যানেট ছিলেন সাবেক বিউটি কুইন। ১৫ বছর বয়সে তিনি ইংল্যান্ডে ব্যালে নাচের প্রশিক্ষণ নিতে যান। তবে পিঠের ইনজুরির কারণে নাচের ক্যারিয়ার থমকে গেলে তিনি ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে ক্রিয়েটিভ আর্টস নিয়ে পড়াশোনা করেন।
১৯৮৩ সালে মিস মালয়েশিয়া জেতার পর থেকে তার শোবিজে পথচলা শুরু। হংকংয়ের অ্যাকশন সিনেমা দিয়ে পরিচিতি পাওয়ার পর তিনি হলিউডে পা রাখেন। জেমস বন্ডের 'টুমরো নেভার ডাইস' ছিল তার প্রথম বড় হলিউড প্রজেক্ট। এরপর 'ক্রাউচিং টাইগার, হিডেন ড্রাগন' এবং 'ক্রেজি রিচ এশিয়ানস' তার ক্যারিয়ারে নতুন মোড় আনে। ২০২৩ সালে 'এভরিথিং এভরিহোয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স' সিনেমার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর অস্কার জয় করেন, যা তাকে প্রথম এশীয় নারী হিসেবে এই সম্মানে ভূষিত করে।
ব্যক্তিগত জীবনে ইয়োহ দীর্ঘ ১৯ বছর বাগদান পর্বের পর ২০২৩ সালে জ্যঁ টডকে বিয়ে করেন। কোভিড মহামারীর সময় ভ্রমণের সীমাবদ্ধতার কারণে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। নিজের ক্যারিয়ার ও জীবন সম্পর্কে তিনি বলেন, জীবন অনেকটা হৃদস্পন্দনের মতো, যা সবসময় ওঠানামা করে। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আজও নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।

