পোল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ক্রাকোর কেন্দ্রে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং ১৬ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, "অনেক গুলি চালানো হয়েছে, ২০টিরও বেশি, যা শুনে মনে হয়েছে একাধিক ভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে – সেখানে দুটি ভিন্ন ধরনের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।" পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি গাড়ি চালিয়ে শহরের একটি চত্বরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। ঘটনার সময় একটি চলন্ত ট্রামকেও লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, তবে কোনো যাত্রী এতে আহত হননি।
হামলা শুরুর তিন মিনিটের মধ্যেই সশস্ত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহভাজনকে গুলি করে। ২৫ বছর বয়সী এই পোলিশ নাগরিককে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি সামরিক পোশাক পরিহিত ছিল এবং তার কাছে সামরিক গ্রেডের অস্ত্র ছিল। তার গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাওয়া গেছে, তবে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
নিহতদের মধ্যে চারজন নারী ও দুইজন পুরুষ রয়েছেন, যার মধ্যে একজন ব্রিটিশ নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত। বাকিদের মধ্যে তিনজন পোলিশ এবং দুইজন এখনো শনাক্ত করা যায়নি। আহতদের মধ্যে পাঁচজন বিদেশি নাগরিক, দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং হামলাকারী নিজেই রয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাস্ক আহত পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম জ্যেষ্ঠ কনস্টেবল ইয়াকুব কুলিক এবং জ্যেষ্ঠ কনস্টেবল আর্তুর মোরানস্কি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা তিনবার গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
পুলিশি অনুসন্ধানে ওস্ত্রোভিইয়েত শ্বেতকশিস্কি শহরে অবস্থিত হামলাকারীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও তিনটি মরদেহ পাওয়া গেছে; শহরটি ক্রাকো থেকে প্রায় ২০০ কিমি (১২৫ মাইল) দূরে অবস্থিত। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শে অনুপ্রাণিত ছিল। শহরের মেয়ার লুকাস গিবাল শোকের ঘোষণা দিয়েছেন যা ১১ নভেম্বর বুধবার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও কূটনীতিকরা এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এই ঘটনার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম রোজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কাল্লাস এই হামলাকে নৃশংস বলে অভিহিত করেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এই ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

