মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানে একটি নতুন চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সামরিক হামলার পরিকল্পনা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প বলেন, তারা ইরানের ওপর খুব কঠোর আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং এক পর্যায়ে ইরান হয়তো বলতে বাধ্য হতো যে তারা আর এই চাপ নিতে পারছে না। তবে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি আপাতত সেই হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ বিন সালমান তাকে ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা না চালানোর বিষয়ে সতর্ক করেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজের এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে আম্মান, জেরুজালেম এবং বাগদাদসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো শনিবার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ অঞ্চলে অবস্থানরত আমেরিকানদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে ফ্লাইট বাতিল, আকাশপথ সাময়িক বন্ধ এবং ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে ইরান সমর্থিত জঙ্গিদের ওপর যৌথ অভিযান চালিয়েছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বিগত ৭২ ঘণ্টায় ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার জবাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ওই ড্রোন হামলাগুলো মার্কিন বাহিনী এবং সৌদি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যা সরাসরি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের নির্দেশে পরিচালিত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও মঙ্গলবার সেন্টকম জানায়, ইরান মার্কিন বাহিনীর ওপর একটি অতর্কিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, তবে সেই সব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে।
এর আগে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে লড়াই থামানোর বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার ফলে ইসরায়েল সরাসরি সামরিক অভিযানে জড়ায়নি। তবে জুলাই মাসের শুরুতে সেই সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়।

