ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোটারদের দীর্ঘ লাইনের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
ভোট দেওয়ার পর ৮০ বছর বয়সী বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা মন্তব্য করেছেন, এই নির্বাচন মূলত গণতন্ত্র এবং "বর্বরত"র মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার লড়াই। অন্যদিকে, তাঁর ৪৫ বছর বয়সী ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্ল্যাভিও বলসোনারো বলেছেন, তিনি "ব্রাজিলিয়ান জনগণকে মুক্ত" করতে চান।
এবারের নির্বাচনের ফলাফল অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিবিসি ব্রাজিলের জরিপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লুলা ও বলসোনারোর মধ্যকার ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশ। প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী যদি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পান, তবে আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার (রান-অফ) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্টের (টিএসই) তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রায় ১৫ কোটি ৮৭ লাখের বেশি ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী ভোটারও রয়েছেন। নির্বাচনে লুলার বিরুদ্ধে আরও ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জরিপ অনুযায়ী লুলা ও বলসোনারো ছাড়া বাকি প্রার্থীরা সম্মিলিতভাবে মাত্র ১০ শতাংশের মতো ভোট পেতে পারেন। টিএসই ফলাফল প্রকাশের নির্দিষ্ট কোনো সময় ঘোষণা না করলেও, ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থার কারণে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ফলাফল জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুবিধাযুক্ত কিছু দেশ থেকে প্রাথমিক ভোট গণনার তথ্য পাওয়া গেছে। চীনে লুলা ৫৬.৬৩ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষে রয়েছেন, যেখানে বলসোনারো পেয়েছেন ৩১.৩৩ শতাংশ। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং সৌদি আরবেও লুলা জয়ী হয়েছেন। তবে ইসরায়েলে বলসোনারো ৭৪.৪০ শতাংশ এবং জাপানে ৭১.৫৯ শতাংশ বৈধ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ব্রাজিলের সিনেটের গঠন কেমন হবে তাও নির্ধারিত হবে। সিনেটের মোট ৮১টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতয়াংশ অর্থাৎ ৫৪টি আসনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমানে সিনেটে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে রয়েছে বলসোনারোর লিবারেল Parti (পিএল)। এর পরেই রয়েছে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিএসডি), যারা বর্তমানে লুলার জোট সরকারের অংশীদার।
বলসোনারোর বিজয় লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদর্শের ডানপন্থী রাজনীতির ঢেউকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, লুলার পুনর্নির্বাচন ওয়াশিংটনের জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হতে পারে, কারণ অতীতে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যুতে তাঁর সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল।
চার বছর আগের নির্বাচনে ফ্ল্যাভিও বলসোনারোর বাবা জাইর বলসোনারোকে সামান্য ব্যবধানে হারিয়েছিলেন লুলা। সেই নির্বাচনের পর জাইর বলসোনারোর হাজার হাজার সমর্থক ব্রাজিলের কংগ্রেসে হামলা চালায়। অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে বর্তমানে জাইর বলসোনারো ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি কারাগারে থাকার পরিবর্তে গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তবে তাঁর ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা বা জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, ছেলে ফ্ল্যাভিও বলসোনারোর পেছনে তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

