সমন্বিত উদ্যোগ ও দৃঢ় বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশেও সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইনের প্রয়োগ, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা।
শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নিসচার ১১তম মহাসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মহাসমাবেশে সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে একটি বাস্তবভিত্তিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তর করা হয়।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব ও মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই, বরং মানুষের জীবনের পক্ষে। দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে না ফেরা পর্যন্ত নিসচার এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তাদের লক্ষ্য কোনো সমালোচনা নয়, বরং সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে একটি দুর্ঘটনামুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই তা সম্ভব হয়। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নাটক, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, লোকসংস্কৃতি, পথনাটক, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। এছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন করে তুলতে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুল হক এবং নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ।
মহাসমাবেশে সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, সুপারিশকৃত উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবহন খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ নিরাপদ, টেকসই ও মানবিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবে।
শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নিসচার ১১তম মহাসমাবেশ-২০২৬ এ তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাস্তবভিত্তিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তর করা হয়।

