ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য লিসা কুককে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস থেকে লিসা কুককে পাঠানো একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বরখাস্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের জুন মাসে সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্বের নেওয়া লিসা কুককে বরখাস্তের সিদ্ধান্তটি আটকে দিয়েছিল। আদালত তাদের ৫-৪ ভোটে দেওয়া রায়ে জানায় যে, বরখাস্তের আগে লিসা কুককে আইন অনুযায়ী যে পদ্ধতিগত সুরক্ষা পাওয়ার কথা ছিল—অর্থাৎ অভিযোগের নোটিশ এবং জবাব দেওয়ার সুযোগ—তা তাকে দেওয়া হয়নি।
আদালতের সেই রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল যে তারা লিসা কুককে বরখাস্তের জন্য 'যথাযথ পদক্ষেপ' গ্রহণ করবে। তারই ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ড্যান স্ক্যাভিনো স্বাক্ষরিত একটি চিঠি লিসা কুকের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরে ২৬ আগস্টের মধ্যে জবাব দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে স্ক্যাভিনো উল্লেখ করেছেন, ২৯ জুন, ২০২৬-এর সুপ্রিম কোর্টের মতামতের আলোকে লিসা কুককে এই নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি এক বা একাধিক মর্টগেজ চুক্তিতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। স্ক্যাভিনো আরও দাবি করেন, এই অভিযোগগুলো তার সততা ও যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যা ফেডারেল রিজার্ভের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা।
এর আগে গত বছরও ট্রাম্প লিসা কুককে বরখাস্তের চেষ্টা করেছিলেন। তখন কুক দ্রুত আদালতে মামলা করে তার পদে বহাল থাকার আইনি লড়াই শুরু করেন। ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এবং ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আপিল আদালত তার বরখাস্তের সিদ্ধান্ত আটকে দিয়েছিল। এরপর সুপ্রিম কোর্টও তার মামলা চলাকালীন তাকে পদে বহাল থাকার অনুমতি দেয়।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে লিখেছিলেন, ট্রাম্পের এই যুক্তি গ্রহণ করলে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে এবং এটি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা বজায় রাখার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য নষ্ট করবে। এদিকে লিসা কুক তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হয়নি। কুকের সমর্থকরা বলছেন, এক বছর আগেও অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ছিল এবং এখনো তা ভিত্তিহীনই রয়ে গেছে।

