অনেকের কাছে এটি দুঃস্বপ্নের মতো মনে হতে পারে, তবে যারা দীর্ঘকায় প্রাণীর ভক্ত, তাদের জন্য বুটলেস ওয়ার্ম (Lineus longissimus) একটি বিস্ময়কর সৃষ্টি। নীল তিমি বা লায়ন’স মেইন জেলিফিশের মতো পরিচিত প্রাণীদের ভিড়ে এই সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণীটি অনন্য এক স্থান দখল করে আছে।
বুটলেস ওয়ার্মের দৈর্ঘ্য প্রায়শই অলিম্পিক সুইমিং পুলের চেয়েও বেশি হতে পারে। স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রুজে ঝড়ের পর তীরে ভেসে আসা একটি কৃমির দৈর্ঘ্য রেকর্ড করা হয়েছিল অবিশ্বাস্য ৫৫ মিটার। তবে প্রজাতিটি অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক হওয়ায় অনেকে মনে করেন, এটি টেনে লম্বা করা হয়ে থাকতে পারে। সাধারণত এদের দৈর্ঘ্য ১৫ মিটার হয়ে থাকে, যেখানে প্রস্থ মাত্র ৫ থেকে ১০ মিলিমিটার।
এই দীর্ঘকায় কৃমির সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো এর বিষাক্ত স্লাইম। নিজেকে হুমকির মুখে পড়লে এই কালো-বাদামী রঙের কৃমি এক ধরনের বিষাক্ত শ্লেষ্মা নিঃসরণ করে, যা থেকে নর্দমার মতো দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। ১৫৫৫ সালে সুইডিশ প্রকৃতিবিদ ওলাস ম্যাগনাস প্রথম এদের বিষাক্ত স্লাইমের বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। তবে ২০১৮ সালের দিকে সুইডিশ বিজ্ঞানীরা এর বিষক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের এই মিউকাস মূলত কাঁকড়াদের অবশ করতে এবং মেরে ফেলতে ব্যবহৃত হয়। আলফা-নেমারটাইড নামক এই বিষাক্ত উপাদানটি আরশোলার জন্যও প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ওপর এর প্রভাব খুবই সামান্য। গবেষকরা মনে করছেন, এই বিষ ভবিষ্যতে নতুন ধরনের কীটনাশক তৈরির ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
বুটলেস ওয়ার্ম মূলত নেমারটিয়ান বা রিবন ওয়ার্মের একটি প্রজাতি। সামুদ্রিক তলদেশ থেকে শুরু করে উপকূলীয় এলাকা পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এদের প্রায় ১,২৫০টিরও বেশি প্রজাতি রয়েছে। এই কৃমিগুলো অত্যন্ত দক্ষ শিকারি, যারা মূলত অ্যানেলিড বা নরম শরীরের কৃমিদের আস্ত গিলে খেতে পছন্দ করে।
ব্রিটিশ উপকূলীয় ঐতিহ্যের অন্যতম এই অমেরুদণ্ডী প্রাণীকে বর্ষসেরা অমেরুদণ্ডী হওয়ার দৌড়ে মনোনয়ন দিয়েছেন এক পাঠক। তার মতে, এটি জীববৈচিত্র্যের এমন এক অবহেলিত শাখা, যা তার অবিশ্বাস্য দৈর্ঘ্য এবং অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের কারণে আলোচনার দাবি রাখে।

