কোভিড-১৯ মহামারির উচ্চ পর্যায়ে দেশের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ড. অ্যান্থনি ফাউচির প্রভাব ছিল অপরিসীম। তবে তিনি নিখুঁত নন এবং তার সব সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। মহামারির সেই সংকটময় সময়ে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল রিয়েল-টাইমে, যার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। আজ পেছনে ফিরে তাকালে মাস্ক, গবেষণা কিংবা স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে সমালোচনা করা সহজ।
কিন্তু ৮৫ বছর বয়সী এই চিকিৎসক ও ইম্যুনোলজিস্ট বর্তমানে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি অত্যন্ত রাজনৈতিক রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন সিনেট কমিটি তাকে জনসমক্ষে অপদস্থ করার চেষ্টা করছে। তাকে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত দলীয় ভিত্তিতে তাকে কংগ্রেস অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করার পক্ষে ভোট দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহের শুনানিতে ফাউচি শতাধিকবার পঞ্চম সংশোধনী (ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট) ব্যবহার করেছেন, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিক হলেও এখন তাকে বিচারের মুখোমুখি করার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
শুনানির শুরুতেই ফাউচি বুঝতে পেরেছিলেন কী ঘটতে যাচ্ছে। তিনি কমিটির চেয়ারম্যান ও কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পলের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তাকে ডাকার একমাত্র কারণ হলো এমন কিছু বলানো, যা পলকে তার আগের ঘোষণা অনুযায়ী ফাউচিকে 'কারাগারে পাঠানোর' দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে। পল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, ফাউচি চীনে এমন গবেষণায় অর্থায়ন করেছিলেন যা থেকে মহামারির সূত্রপাত হয় এবং পরবর্তীতে তিনি তা নিয়ে মিথ্যা বলেছেন। তবে ফাউচি এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।
২০২৫ সালের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে জো বাইডেন ফাউচিকে আগাম ক্ষমা (pardon) ঘোষণা করেছিলেন। এরপর থেকে র্যান্ড পলের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকানরা ফাউচির ব্যক্তিগত ডায়েরির হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠা প্রকাশ করেছে, যেখানে তারা তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও সরকারি নির্দেশনার মধ্যে অসামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছে। তবে এই ক্ষমা কেবল গত বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর, তাই ফাউচি এখনো স্থানীয় বা রাজ্য পর্যায়ের আইনি ঝুঁকি থেকে মুক্ত নন।
আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফাউচির পঞ্চম সংশোধনী ব্যবহারের সিদ্ধান্তটি ছিল যুক্তিযুক্ত। নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিষয়ের অধ্যাপক মাইকেল গেরহার্ড পিবিএস-কে বলেন, ফাউচি জানতেন শুনানির মূল লক্ষ্যই হলো তাকে বিচারের মুখোমুখি করা, তাই তিনি নিজেকে রক্ষা করার সবচেয়ে নিরাপদ পথটি বেছে নিয়েছেন। অতীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও ২০২২ সালে নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে হওয়া প্রতারণা সংক্রান্ত তদন্তের সময় ৪০০ বারেরও বেশি একই অধিকার প্রয়োগ করেছিলেন।
ফাউচির বিরুদ্ধে এই রাজনৈতিক হয়রানি কয়েক বছর ধরে চলছে এবং ডানপন্থী রাজনীতিকরা তাকে তাদের 'সুপারভিলেন' বানিয়ে ফেলেছেন। ২০২১ সাল থেকে রিপাবলিকানরা তার ইমেল ব্যবহার করে তাকে চাকরিচ্যুত করার দাবি জানিয়ে আসছিল। এমনকি স্টিভ ব্যাননের পডকাস্টে তার শিরশ্ছেদের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এই উগ্র রটনার বিপরীতে শিক্ষাবিদ জেইনপ তুফেকসি মহামারির সরকারি নির্দেশনার অস্পষ্টতা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন, যা জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। তবে সেই যৌক্তিক বিতর্ক আর ক্যাপিটল হিলে বর্তমানে যা ঘটছে, তার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্পের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত বিচার বিভাগ এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাবে, এমন আশা করার কারণ খুব কমই আছে।

