সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় সরকারি ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা ছাড়াই প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আটগাঁও ইউনিয়নের বাজারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সৌরভ সমাজপতিকে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগবঞ্চিতদের দাবি, সৌরভ দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন এবং গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ‘নো ভোট’ প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। একই পদে নিয়োগ পাওয়া উজ্জ্বল চৌধুরী, জুয়েল দাশ, তুহিন মিয়া ও মাসুকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, রাসেল রাহাত নামের আরেকজন, যিনি অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন, তিনিও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিয়োগবঞ্চিতরা আরও অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিত্যানন্দ দাসের আপন ভাতিজার মেয়ে সিম্পন রানী দাসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সুপারভাইজার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার শর্ত ভঙ্গ করে পাম্পি রানী দাসকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে, যার বিয়ে দুই বছর আগে দিরাই উপজেলায় হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরীক্ষা না দিয়েই নিয়োগ পাওয়ার বিষয়ে সুবেল আহমেদ শুভ নামে এক প্রার্থী জানান, ভাইভা পরীক্ষায় মাসুকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন না, বোর্ড সদস্যরা তাকে ডেকেও পাননি। অথচ চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম এসেছে। হাজিরুল ইসলাম নামের আরেক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, যোগ্যদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্তদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে। শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আহমেদ এই নিয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সরকারি কার্যক্রমকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন।
উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল আওয়াল জানান, নিয়োগ কার্যক্রম পরীক্ষার মাধ্যমে হওয়ার কথা থাকলেও অনিয়ম হয়ে থাকলে তা দুঃখজনক। এ বিষয়ে ফ্যামিলি কার্ড স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহ কমিটির সদস্যসচিব বিশ্বপতি চক্রবর্তীকে একাধিকবার ফোন করলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কমিটির সভাপতি পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “সবার প্রোফাইল ঘাঁটাঘাঁটি করে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। তবে কারও বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

