ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সম্প্রতি এক সাবেক ইসরায়েলি সেনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় তাকে ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত শনিবার এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে সাবেক বন্দি ও সেনাসদস্য রম ব্রাসলাভস্কি মন্ত্রীর কাছে এই বিশেষ অনুরোধ জানান।
সাক্ষাৎকারে ব্রাসলাভস্কি বলেন, তিনি কেবল দড়ি দিয়ে নয়, বরং বন্দুকের বাটনে চাপ দিয়ে নিজ হাতে ইসরায়েলের বন্দি ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে চান। জবাবে বেন-গভির বলেন, তিনি এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পৃথিবীর সবকিছু উল্টে দেবেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে। তিনি ব্রাসলাভস্কিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই কাজটির জন্য আপনিই সঠিক ব্যক্তি এবং বন্দিরা বেঁচে থাকার যোগ্য নয়।
২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষদিকে ইসরায়েলি নেসেটে বেন-গভিরের 'জুইশ পাওয়ার' পার্টির প্রস্তাবিত একটি আইন পাস হয়। এই আইন অনুযায়ী, যদি কোনো সামরিক আদালত ফিলিস্তিনিদের দ্বারা ইসরায়েলি হত্যার ঘটনাকে 'সন্ত্রাসবাদ' বা 'ইসরায়েলের অস্তিত্ব অস্বীকার' হিসেবে গণ্য করে, তবে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে বেন-গভির ২০২২ সালের শেষদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর কঠোর শর্ত আরোপের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, আগে কারাগারে জ্যাম, চকলেট, টেলিভিশন, টেবিল টেনিস ও মাংসের মতো সুযোগ-সুবিধা ছিল, যা এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বন্দিদের এই বর্তমান দুরবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এটি ভুক্তভোগীদের কষ্টের কিছুটা হলেও উপশম করবে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বেন-গভির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের খাদ্য ও চিকিৎসা সুবিধাসহ সামগ্রিক আটকাবস্থা অনেক বেশি কঠোর করা হয়েছে।

