ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানিয়েছেন, আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। এখন পর্যন্ত কিয়েভ মূলত দূরপাল্লার ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইলের ওপর নির্ভর করে রাশিয়ার গভীরে হামলা চালিয়ে আসছে, তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার রুশ বাহিনীর জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা আরও কঠিন করে তুলবে।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেদোরভ বলেন, প্রতিটি প্রযুক্তিগত চক্রেই রাশিয়াকে পরাজিত করা প্রয়োজন। যদিও ইউক্রেন দ্রুত উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তবুও তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে রাশিয়াও পাল্টা দ্রুতগতিতে তাদের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'ফায়ার পয়েন্ট' বর্তমানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ করছে এবং জুন মাসে তারা একটি সফল উৎক্ষেপণ পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছে। উল্লেখ্য, ইউক্রেনের ড্রোন কর্মসূচির অন্যতম প্রধান কারিগর ফেদোরভকে জুলাই মাসে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, রবিবার ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে অন্যতম বড় আকারের ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় মস্কোর কাছে একটি ওয়াইল্ডবেরিস ডিস্ট্রিবিউশন গুদামে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে এবং অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। মস্কোর আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভ এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ১,৪৭৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যার দাবি।
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রবিবার তারা রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেমসহ বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কঠিন রকেট প্রোপেল্যান্ট তৈরি করে।
অন্যদিকে, ন্যাটোর ডিউটিরত একটি স্প্যানিশ এফ-১৮ যুদ্ধবিমান রবিবার রোমানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোনটি মলদোভা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছিল এবং এর ধ্বংসাবশেষ ইউক্রেন সীমান্তের কাছে গ্যালাটি অঞ্চলের জনশূন্য এলাকায় পড়েছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, রাশিয়া যেখানেই তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পৌঁছাতে পারছে, সেখানেই বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে ১,৫৫০টিরও বেশি ড্রোন, প্রায় ১,৫৬০টি গাইডেড এরিয়াল বোমা এবং ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছেন।

