টেনিস অঙ্গনে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্ম দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্প্যানিশ তরুণ রাফায়েল জোদার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের আচরণ ও পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করতে গিয়ে নিজেকে ‘এ’ গ্রেড দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ট্রোলের শিকার হচ্ছেন ১৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়।
সাক্ষাৎকারে জোদারকে তার মনোভাব (অ্যাটিটিউড), পারফরম্যান্স, র্যাংকিং এবং আচরণের ওপর ভিত্তি করে নিজেকে গ্রেড দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। তিনি নিজের মনোভাবের জন্য ‘এ’ গ্রেড দিয়ে বলেন, টেনিসে সঠিক মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জয়ের জন্য মানসিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন, যা তার রয়েছে। পারফরম্যান্সে নিজেকে ‘বি+’ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান ফর্ম নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও তিনি আরও ভালো করতে চান, কারণ তিনি সবসময় আরও বেশি অর্জনের চেষ্টা করেন। এছাড়া ২০২৬ সালে পেশাদার টেনিসে পা রাখার পর ৫০০-এর বাইরে থেকে সরাসরি বিশ্ব র্যাংকিংয়ের ১১ নম্বরে উঠে আসায় র্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও নিজেকে ‘এ’ গ্রেড দেন জোদার।
তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে আচরণের ক্ষেত্রে নিজেকে ‘এ’ গ্রেড দেওয়া নিয়ে। নিজের আচরণের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে জোদার বলেন, "অনেক ভক্ত এবং সাধারণ মানুষ আমাদের ম্যাচ দেখেন। তাই আমাদের তাদের জন্য উদাহরণ বা রোল মডেল হতে হবে। আমার কাছে রাফায়েল নাদাল এবং অন্য খেলোয়াড়রা রোল মডেল ছিলেন। তাই আচরণের ক্ষেত্রেও আমি নিজেকে ‘এ’ দেব।"
জোদারের এই মন্তব্যের পর টেনিস ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার তীব্র সমালোচনা শুরু করেন। এক ভক্ত লিখেছেন, "তার এই আত্মসচেতনতার অভাব দেখে হাসব না কাঁদব ভেবে পাচ্ছি না।" অন্য একজন লিখেছেন, "আমি গত ৫ মিনিট ধরে এটা দেখে হাসতে হাসতে কেঁদে ফেলেছি। সে তো আমাকে মেরেই ফেলবে।" আরেকজন মন্তব্য করেছেন, "আচরণে নিজেকে ‘এ’ দেওয়া থেকেই জেন-জি (Gen Z) প্রজন্ম সম্পর্কে সবকিছু বোঝা যায়।" ফ্রেঞ্চ ওপেনের এক বিতর্ক টেনে অন্য এক ভক্ত লিখেছেন, "আরে দেখ! ওখানে একটা বল কিড!"
ভক্তদের এই ক্ষোভের পেছনে রয়েছে জোদারের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত আচরণ। ২০২৬ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনে এক বল গার্লকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে, যা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল হয়েছিল। যদিও জোদার সেই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন যে তিনি মেয়েটিকে স্পর্শ করেননি, বরং সে একটি টার্পে (ত্রিপল) হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়েছিল।
এছাড়া সিনসিনাটি ওপেনে বিশ্ব র্যাংকিংয়ের ৪৮ নম্বর খেলোয়াড় ডেনিস শাপোভালভের বিপক্ষে ম্যাচেও বিতর্ক ছড়ান জোদার। ম্যাচের শেষ সেটে যখন তিনি ১-৪ গেমে এবং ৩০-১৫ পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলেন, তখন জুতার ফিতা দ্বিতীয়বারের মতো ছিঁড়ে গেছে দাবি করে খেলা থামিয়ে দেন। পরে তিনি সেই সেট এবং ম্যাচ জিতে নেন। ভক্তরা তাকে ‘প্রতারক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি কেবল শাপোভালভের খেলার ছন্দ নষ্ট করার জন্যই খেলা থামিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, এই বিতর্ক ও ট্রোলের মাঝেই সিনসিনাটি ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে আলেহান্দ্রো তাবিলোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন রাফায়েল জোদার।

