মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে সরকারি ঋণের খরচ ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবারের তথ্যে দেখা গেছে, প্যারিস, বার্লিন, ওয়াশিংটন ডিসি, টোকিও এবং লন্ডনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে সরকারি বন্ডের সুদ বা ইয়েল্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন যে, ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার আরও বাড়াতে হতে পারে।
ফ্রান্সের ৩০ বছর মেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড এক বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪.৮৫৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা সেপ্টেম্বর ২০০৮-এর পর সর্বোচ্চ। এছাড়া দেশটির ১০ বছর মেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড জুন ২০০৯-এর পর সর্বোচ্চ ৪.০৫১৬ শতাংশে পৌঁছেছে। জার্মানির সমতুল্য বন্ডের ইয়েল্ড ১.৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৩.২১৩৮ শতাংশ হয়েছে, যা ২০১১ সালের পর সর্বোচ্চ। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর প্রায় ৮৫ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী ঋণের খরচও ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পরবর্তী সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেখানে ৩০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড ৫.২৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। একই সাথে যুক্তরাজ্য ও ইতালির সরকারি বন্ডের দামও হ্রাস পেয়েছে।
জাপানের ১০ বছর মেয়াদী সরকারি বন্ডের ইয়েল্ড তিন দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইয়েনের মান ধরে রাখতে ব্যাংক অব জাপান সেপ্টেম্বরেই সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বিনিয়োগকারীরা। আইজি-এর প্রধান প্রযুক্তিগত বিশ্লেষক এক্সেল রুডলফ মন্তব্য করেছেন, ইয়েনের দুর্বলতা এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণকে কঠিন করে তুলছে। তিনি বলেন, জাপানের বন্ড বাজার এখন আর আগের মতো ক্ষমাশীল নয়, তাই ব্যাংক অব জাপানকে ভঙ্গুর অর্থনীতি রক্ষা ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে তেলের দাম গত সপ্তাহে ৬ শতাংশ বেড়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত নিরসনে হিমশিম খাচ্ছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সমাপ্তি প্রচেষ্টার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে ওমানকে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন।

