ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে সেন্ট লুসিয়া কিংসকে ৯ রানে হারিয়েছে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস। বৃষ্টির কারণে বিলম্বিত হওয়া ম্যাচটি ১৮ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস ৫ উইকেটে ১৭৭ রান সংগ্রহ করে। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় ১৬৮ রানেই থামে সেন্ট লুসিয়া কিংসের ইনিংস।
টস জিতে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান সেন্ট লুসিয়া কিংসের অধিনায়ক রোস্টন চেজ। শুরুতে ওপেনার জ্যাকারি কার্টার দ্রুত বিদায় নিলেও ব্র্যান্ডন কিং ও কুইন্টন ডি ককের ৫৬ রানের ঝড়ো জুটি ট্রাইডেন্টসকে শক্ত ভিত গড়ে দেয়। অধিনায়ক রোস্টন চেজ এই দুই ব্যাটারকেই সাজঘরে ফিরিয়ে কিংসকে ম্যাচে ফেরান। তবে ১০ম ওভারে ৯০ রানে ৩ উইকেট পতনের পর ক্রিজে এসে তাণ্ডব চালান শেরফেন রদারফোর্ড। মাত্র ৩১ বলে ৩টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৬১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ম্যাথু ফোর্ডের এক ওভারে একটি চার ও দুটি ছক্কা মারার পর, ১৭তম ওভারে টানা দুই ছক্কা মেরে তিন বছরের মধ্যে সিপিএলে নিজের প্রথম অর্ধশতক পূর্ণ করেন রদারফোর্ড। শেষ ওভারে তিনি আউট হলেও ক্রিস গ্রিনের শেষ বলের ছক্কায় ১৭৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় বার্বাডোজ।
১৭৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে সেন্ট লুসিয়া কিংসের পক্ষে ওপেনিংয়ে নামেন অধিনায়ক রোস্টন চেজ নিজে। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় দ্রুত রান তুলতে থাকা চেজের কল্যাণে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪১ রান। তবে দুই ওভারের ব্যবধানে দুই ওপেনারকেই সাজঘরে পাঠায় ট্রাইডেন্টস। অষ্টম ওভারে দ্রুত সিঙ্গেল নিতে গিয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন জুয়েল অ্যান্ড্রু। এরপর আকিম অগাস্ট এক প্রান্ত আগলে রেখে কিংসকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। চারিথ আসালাঙ্কার সাথে ৫৫ রানের জুটিতে অগাস্ট একাই অবদান রাখেন ৪৫ রান। নবম ওভারে একটি চার ও দুটি ছক্কা মেরে রানের গতি সচল রাখা অগাস্ট ১২তম ওভারে র্যামন সিমন্ডসকে তিনটি ছক্কা মেরে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন। শেষ পর্যন্ত ১৪তম ওভারে গুড়াকেশ মোতির বলে আউট হওয়ার আগে তিনি ৬৩ রান করেন।
অগাস্টের বিদায়ের পর ট্রাইডেন্টস ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছিল। তবে ১৭তম ওভারে আমারি গুডরিজকে টানা দুটি ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন ড্যানিয়েল সামস। তৃতীয় ছক্কা মারার চেষ্টায় তিনি আউট হলেও শেষ ওভারে জয়ের সমীকরণ দাঁড়ায় ২৯ রান। শেষ ওভারে র্যামন সিমন্ডসের ওপর চড়াও হন ম্যাথু ফোর্ড, মারেন দুটি চার ও একটি ছক্কা। তবে চতুর্থ বলে বুদ্ধিদীপ্ত স্লোয়ার ডেলিভারিতে ফোর্ডকে স্ট্রাইক থেকে সরিয়ে দেন সিমন্ডস। পঞ্চম বলে জশুয়া বিশপ আউট হন এবং শেষ বলে মহেশ থিকশানা চার মারলেও তা কেবল সেন্ট লুসিয়ার পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। গুড়াকেশ মোতি ২২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ট্রাইডেন্টসের সেরা বোলার নির্বাচিত হন।

