অস্ট্রেলিয়ার আলোচিত ‘মশরুম হত্যাকাণ্ড’ মামলার প্রধান আসামি ৫১ বছর বয়সী এরিন প্যাটারসন আবারও আদালতের মুখোমুখি হচ্ছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভিক্টোরিয়ার লিওনগাথায় নিজ বাড়িতে বিষাক্ত মশরুম দিয়ে তিন আত্মীয়কে হত্যা এবং একজনকে হত্যার চেষ্টার দায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এখন তিনি সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে কনভিকশন চ্যালেঞ্জ করছেন।
এরিন প্যাটারসনের দাবি, তিনি সুষ্ঠু বিচার পাননি। তার আপিলের পেছনে সাতটি প্রধান কারণ রয়েছে, যার মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণ উপস্থাপন এবং প্রসিকিউশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এরিনের আইনি দলের অভিযোগ, আদালতে জুরিদের এমন কিছু তথ্য দেখানো হয়েছে যা প্রাসঙ্গিক ছিল না এবং তা ন্যায়বিচারকে ব্যাহত করেছে। উদাহরণ হিসেবে, এরিনের মোবাইল ট্র্যাকিং ডেটা এবং তার ফেসবুক বন্ধুদের সাথে কথোপকথনের মেসেজগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি তার শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামী সাইমন প্যাটারসন সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন।
অন্যদিকে, এরিনের প্রতিরক্ষা দল দাবি করেছে যে, তার মশরুম সংগ্রহের শখের ছবিগুলো আদালতে উপস্থাপন করতে না দেওয়াটা ছিল ভুল। এছাড়া প্রসিকিউশনের মোটিভ বা উদ্দেশ্য নিয়ে অসামঞ্জস্যতা এবং ক্রস-এক্সামিনেশনের সময় ব্যারিস্টার ন্যানেট রজার্সের আচরণকে এরিন ‘অন্যায্য ও নিপীড়নমূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো জুরিদের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে। এরিনের আইনজীবীদের দাবি, মিডিয়ার ব্যাপক আগ্রহের কারণে জুরিরা যে হোটেলে ছিলেন, সেখানে প্রসিকিউশন ও পুলিশের সাক্ষী এবং সাংবাদিকরাও অবস্থান করছিলেন, যা বিচারের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এরিন বর্তমানে মেলবোর্নের ডেম ফিলিস ফ্রস্ট সেন্টারে বন্দি রয়েছেন এবং ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে আপিল শুনানিতে অংশ নেবেন। বিচারক তার সাজার সময় উল্লেখ করে জানান, এরিন ইতিমধ্যে ১৫ মাস নির্জন কারাবাসে কাটিয়েছেন। এদিকে, প্রসিকিউশনও এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। বিচারক ক্রিস্টোফার বিল এরিনকে ৩৩ বছর পর প্যারোলে মুক্তির সুযোগ দিলেও প্রসিকিউশনের যুক্তি, এই সাজা ‘পর্যাপ্ত নয়’ এবং এই ট্রিপল খুনিকে কখনোই মুক্তি দেওয়া উচিত নয়।
২০২৩ সালে এরিন তার শ্বশুর ডন ও শাশুড়ি গেইল প্যাটারসন, উভয়ই ৭০ বছর বয়সী, এবং গেইলের বোন ৬৬ বছর বয়সী হেদার উইলকিনসনকে নিজ বাড়িতে বিফ ওয়েলিংটনের সাথে ডেথ ক্যাপ মশরুম খাইয়ে হত্যা করেন। এরিনের তৎকালীন স্বামী সাইমন প্যাটারসনও ওই খাবারে আমন্ত্রিত ছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি না যাওয়ায় বেঁচে যান। সাইমন এর আগে অভিযোগ করেছিলেন যে, এরিন তাকে কয়েক বছর ধরে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন, যার ফলে তিনি দীর্ঘ সময় কোমায় ছিলেন এবং তার অন্ত্রের বড় অংশ অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করতে হয়েছিল। এরিন বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল এবং ঘটনার পর তার আচরণ ছিল কেবল আতঙ্কের বহিঃপ্রকাশ। এই আপিল মামলার রায় আসতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

